দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে যোগ দিলেন মৎস্যজীবী দল নেতা

পটুয়াখালীর বাউফলে এক কলস দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দল নেতা মো. জালাল হাওলাদার।

Jan 27, 2026 - 12:06
 0  2
দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে যোগ দিলেন মৎস্যজীবী দল নেতা
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর বাউফলে এক কলস দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দল নেতা মো. জালাল হাওলাদার। তিনি এর আগে বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোশারফ হোসেন লিটন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বাউফল উপজেলার বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পটুয়াখালী-২ আসনে দশ দলীয় ঐক্য জোটের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদের উঠান বৈঠকে দুধ দিয়ে গোসল করে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে মো. জালাল হাওলাদার বলেন, দলের নেতাদের অবহেলা ও দীর্ঘদিনের মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর দলের দুর্দিনে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ভেবেছিলাম এখন একজন অভিভাবক পাব, যার আশ্রয়ে রাজনীতি করব। কিন্তু যাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি সেই ধরনের অভিভাবক নন। তিনি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে ব্যস্ত। আমাদের খোঁজখবর নেন না, বরং যারা দীর্ঘদিন আমাদের ওপর হামলা-মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের সঙ্গেই চলাফেরা করছেন। এ কারণেই আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি এবং আগামী দিনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করব।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বগা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য আবুল কালাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এস এম আমিনুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল খান, বগা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক শরীফসহ প্রায় তিন শতাধিক বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থক, যারা একইসঙ্গে জামায়াতে যোগ দেন।

নবাগতদের বরণ করে নিতে অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি তাদের হাতে উপহার হিসেবে জমজম কূপের পানি ও সৌদি আরবের খেজুর তুলে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তসলিম তালুকদার বলেন, কেউ যদি দলীয় পদ-পদবীতে থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এমবি এইচআর