ছয় দফা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে তাসনিম জারা

‘ঢাকা-৯ আসনকে অবহেলার দিন শেষ।’—এমন ঘোষণা দিয়ে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।

Jan 24, 2026 - 18:29
 0  2
ছয় দফা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে তাসনিম জারা
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

‘ঢাকা-৯ আসনকে অবহেলার দিন শেষ।’—এমন ঘোষণা দিয়ে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে ইশতেহার তুলে ধরেন।

ইশতেহারে ডা. তাসনিম জারা নিজেকে পেশাদার রাজনীতিবিদ নয়, বরং ‘এলাকার মেয়ে’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-৯ আসনের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। “আমরা সমান ট্যাক্স দেই, আমাদের অধিকারও সমান। আমাদের ন্যায্য পাওনা এবার আমরা বুঝে নেবো,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্র নাগরিকদের কেবল ‘রাজস্ব আদায়ের উৎস’ হিসেবে দেখে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, টাকা নেওয়ার সময় রাষ্ট্র থাকে, কিন্তু সেবা দেওয়ার সময় থাকে না।

ডা. তাসনিম জারা তাঁর ইশতেহারে ছয়টি মূল খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। প্রথমেই তিনি গ্যাস সংকট, ভঙ্গুর রাস্তা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। গ্যাস সরবরাহ না পেলে বিল মওকুফের লক্ষ্যে ‘সেবা না দিলে বিল নেই’ (নো সার্ভিস, নো বিল) নীতিতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি এলপিজি সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারি ভর্তুকি নিশ্চিত করা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং রাস্তা সংস্কারে ঠিকাদারদের জবাবদিহিতা ও জরিমানা নিশ্চিত করার কথা বলেন।

একজন চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ডা. জারা। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিটি পাড়ায় ‘মিনি হাসপাতাল’ বা আধুনিক কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মৌসুমি কার্যক্রমের পরিবর্তে সারা বছর সক্রিয় ‘স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে স্কুল-কলেজ ও শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন রাস্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও উচ্চক্ষমতার ল্যাম্পপোস্ট বসিয়ে ‘নিরাপদ করিডোর’ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, বাসে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

শিক্ষা খাতে ‘শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানানো বন্ধ’ করার আহ্বান জানিয়ে ডা. তাসনিম জারা ঘোষণা দেন, স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এমপির কোনো কোটা বা সুপারিশ থাকবে না। মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে আধুনিক বিজ্ঞানাগার, কোডিং ক্লাব এবং এআই শিক্ষার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

বেকারত্ব দূর করতে ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড গঠনের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ডা. জারা। পাশাপাশি কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি খরচে কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।

প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হবে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি এমপির সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি এবং অভিযোগের অগ্রগতি জানাতে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে।

ইশতেহারের শেষাংশে ভোটারদের উদ্দেশে ডা. তাসনিম জারা বলেন, “আপনারা অনেক নেতা দেখেছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। এবার একজন ডাক্তারকে সুযোগ দিন—যে জানে রোগ কোথায়, ওষুধ কোনটা; যে কথা রাখে এবং বিপদে পাশে দাঁড়ায়।”

এমবি এইচআর