আফগানিস্তানে আফিম চাষে পতন, তবে বেড়েছে সিনথেটিক ড্রাগ উৎপাদন

২০২৫ সালে আফগানিস্তানে আফিম চাষ ২০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে একই সময়ে দেশটিতে সিনথেটিক মাদক উৎপাদন ও পাচার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

Nov 6, 2025 - 19:44
 0  2
আফগানিস্তানে আফিম চাষে পতন, তবে বেড়েছে সিনথেটিক ড্রাগ উৎপাদন
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

২০২৫ সালে আফগানিস্তানে আফিম চাষ ২০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে একই সময়ে দেশটিতে সিনথেটিক মাদক উৎপাদন ও পাচার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

তালেবান সরকার ২০২২ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর দেশজুড়ে আফিম পপি চাষ নিষিদ্ধ করে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত দপ্তর (UNODC) প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পপি চাষের জমি ২০২৪ সালের ১২ হাজার ৮০০ হেক্টর থেকে কমে ২০২৫ সালে ১০ হাজার ২০০ হেক্টর হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে আফিম চাষের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর। এ বছরের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯৬ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ কম।

আফিম বিক্রি থেকে কৃষকদের আয়ও ব্যাপকভাবে কমেছে— ২০২৪ সালের ২৬০ মিলিয়ন ডলার থেকে নেমে ২০২৫ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৩৪ মিলিয়ন ডলারে। তবে শুকনো আফিমের দাম এখনো নিষেধাজ্ঞার আগের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি বলে জানিয়েছে ইউএনওডিসি।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তানে এখন দ্রুতগতিতে সিনথেটিক মাদক, বিশেষ করে মেথামফেটামিন উৎপাদন বাড়ছে। এই ড্রাগগুলো সহজে তৈরি করা যায়, শনাক্ত করা কঠিন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও টিকে থাকে— যা অপরাধী চক্রের জন্য নতুন ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে কাজ করছে।

জাতিসংঘ এবং তালেবান সরকার উভয়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন আফগান কৃষকদের বিকল্প জীবিকা ও ফসল চাষে সহায়তা করা হয়। তবে খরা, কম বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ার অভাবে এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষিজমি পতিত পড়ে আছে।

২০২২ সালের নিষেধাজ্ঞার পর পপি চাষ দক্ষিণাঞ্চল থেকে সরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলে যায়। গত মে মাসে বাদাখশান অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পপি চাষ করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কৃষকদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হন।

এমবি এইচআর