প্লট জালিয়াতি মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ আসামির রায় পড়া শুরু
পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে রায় পড়া শুরু হয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে রায় পড়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ২৩ মিনিটে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় পাঠ করা শুরু করেন।
শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার পর পৃথক দুটি মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ আসামি এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ আসামির রায়ও পড়া হবে।
আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা
রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নিম্ন আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালতের মূল প্রবেশপথে বিজিবির একটি দল অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা—যাবজ্জীবন কারাদণ্ড—ঘোষণা করা হবে।
বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি
গত ৩১ জুলাই থেকে এই তিন মামলার বিচার শুরু হয়।
-
শেখ হাসিনাসহ ১২ আসামির মামলায় ২৯ জন
-
সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ আসামির মামলায় ৩২ জন
-
সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ আসামির মামলায় ৩০ জন সাক্ষ্য দেন।
আসামিদের মধ্যে কেবল খুরশীদ আলম কারাগারে আছেন। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।
অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে
দুদকের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়—
সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কূটনৈতিক জোনে ছয়টি প্লট বরাদ্দ নেন।
অভিযোগে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ৪০৯, ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারার বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের নামে পূর্বাচল ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের বিভিন্ন সময়ে এসব বরাদ্দপত্র ও রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ছয়টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
এমবি এইচআর

