সোমবার রায়, সাজা হলে যুক্তরাজ্যে যে পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন টিউলিপ
ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে প্লট নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণা সোমবার (১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে প্লট নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণা সোমবার (১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্রিটিশ এমপি ও সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪৩ বছর বয়সী টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি তার মা শেখ রেহানা (৭০), ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি (৪৫) এবং বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে (৩৫) শেখ হাসিনার মাধ্যমে সরকারি প্লট পাইয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একই মামলায় গত বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনা ২৩ বছরের সাজা পাওয়ায় টিউলিপের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ‘জোরালো সম্ভাবনা’ রয়েছে।
এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে তদন্ত শুরু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তিনি সিটি মিনিস্টারের পদ ছাড়তে বাধ্য হন।
রবিবার ডেইলি মেইল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে যদি টিউলিপ দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হন, তবে যুক্তরাজ্যে তিনি এমপি পদ ছাড়ার তীব্র চাপের মুখে পড়বেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই ধরনের চাপের মুখে পড়লেও সেসময় তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও এমপি পদ ধরে রাখতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেটের সংসদ সদস্য।
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে একটি ফ্ল্যাট নিয়ে টিউলিপের মিথ্যাচারের অভিযোগও আলোচনায় আসে। তিনি দাবি করেছিলেন—ফ্ল্যাটটি বাবা-মায়ের থেকে পাওয়া। কিন্তু অভিযোগ ওঠে—তিনি এটি আওয়ামীপন্থী এক নেতার কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে পেয়েছেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বলা হয়—মিথ্যাচার করলেও টিউলিপ মন্ত্রিত্বের কোনো নিয়ম ভাঙেননি।
বাংলাদেশে টিউলিপের বিরুদ্ধে মামলাটি কতটা স্বচ্ছ—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ব্রিটিশ আইনজীবী। তারা বিষয়টি তদন্তের জন্য লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে টিউলিপ বা সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ আইনজীবীরা এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
এমবি এইচআর

