এক টন কয়লাও যেন ইসরায়েলে না যায়, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে ইসরায়েলগামী সব ধরনের কয়লা রপ্তানি বন্ধে নৌবাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় পেত্রো বলেন, ‘আজও ইসরায়েলের উদ্দেশে কয়লা বোঝাই একটি জাহাজ ছেড়ে গেছে। এটা আমার সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। নৌবাহিনীকে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হবে ইসরায়েলগামী কোনো জাহাজ যেন ছাড়পত্র না পায়।’ অন্য এক পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কলম্বিয়া থেকে এক টন কয়লাও যেন ইসরায়েলে না যায়।’
প্রেসিডেন্ট পেত্রো গাজায় ইসরায়েলি অভিযানকে একাধিকবার ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে চলতি বছর কলম্বিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং দেশটি থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি বোগোতায় ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকেরও আয়োজন করেন তিনি। নিজের বাসভবন ‘কাসা দে নারিনো’তে ফিলিস্তিনি পতাকা টাঙিয়ে তিনি তার সমর্থনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন।
এর মাধ্যমে পেত্রো পূর্বে জারি করা কয়লা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন। যদিও আগের নিষেধাজ্ঞায় পূর্বে অনুমোদিত কিছু চুক্তি ও শুল্ক ছাড়পত্র পাওয়া চালানের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পেত্রো অভিযোগ করেছেন, তার প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এখনো ইসরায়েলে কয়লা রপ্তানির অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছেন, যা তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
নতুন এই নির্দেশের ফলে ব্রিটিশ-সুইস কোম্পানি পরিচালিত সেরেজন ও মার্কিন কোম্পানি ড্রুমন্ডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কলম্বিয়া সরকারের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তারা পূর্বের নিষেধাজ্ঞায় থাকা আইনি ছাড়ের সীমার মধ্যেই কাজ করছে। তবে প্রেসিডেন্ট পেত্রো এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তার ভাষায়, ‘যদি তারা আমাদের কথা না শোনে, তাহলে পরিণামে এই সরকার মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত হবে।’
এ ছাড়া, পেত্রো শ্রমমন্ত্রী গ্লোরিয়া ইনেস রামিরেজকে কয়লা খাতের শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে জরুরি সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, তিনি লা গুয়াজিরা অঞ্চলের আদিবাসী ওয়াইউ সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পেত্রোর মতে, কয়লা খনি কেবল পরিবেশের জন্যই হুমকি নয়, এটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গেও জড়িত।
গাজায় ইসরায়েলি নীতির প্রতিবাদে বিশ্বের অনেক দেশ নিন্দা জানালেও কলম্বিয়ার মতো সরাসরি পণ্য রপ্তানি বন্ধের ঘটনা বিরল। প্রেসিডেন্ট পেত্রোর এই উদ্যোগকে সমালোচকরা ‘অর্থনৈতিক আত্মঘাত’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এতে কলম্বিয়ার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং খনিজ সম্পদনির্ভর অঞ্চলে কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা একে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে একটি সাহসী ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা কলম্বিয়ার শোষিত আদিবাসী ও পরিবেশের স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।
এমবি/এইচআর