ভেনিজুয়েলার আকাশসীমা ট্রাম্প বন্ধ বলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া, কারাকাসের অভিযোগ ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’

ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ভেনিজুয়েলার আকাশসীমাকে ‘পুরোপুরি বন্ধ’ বিবেচনা করার আহ্বান জানানোর পর কারাকাস তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছে—এটি ভেনিজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ, অযৌক্তিক ও অবিচারপূর্ণ আগ্রাসন’।

Nov 30, 2025 - 11:52
 0  3
ভেনিজুয়েলার আকাশসীমা ট্রাম্প বন্ধ বলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া, কারাকাসের অভিযোগ ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ভেনিজুয়েলা। ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ভেনিজুয়েলার আকাশসীমাকে ‘পুরোপুরি বন্ধ’ বিবেচনা করার আহ্বান জানানোর পর কারাকাস তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছে—এটি ভেনিজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ, অযৌক্তিক ও অবিচারপূর্ণ আগ্রাসন’।

আন্তর্জাতিক আইনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অন্য কোনো দেশের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করা সম্ভব নয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে এবং এয়ারলাইনগুলোকে ভেনিজুয়েলার ওপর দিয়ে উড়তে নিরুৎসাহিত করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ভেনিজুয়েলা–সংলগ্ন আকাশসীমায় ‘তীব্র সামরিক কার্যক্রমের’ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তাদের সাপ্তাহিক অভিবাসী প্রত্যাবাসন ফ্লাইট স্থগিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলো এবং জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘অনৈতিক আগ্রাসন’ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা।

এর আগে, বুধবার ভেনিজুয়েলা ছয়টি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা—ইবেরিয়া, টিএপি পর্তুগাল, গোল, লাটাম, এভিয়ানকা এবং তুর্কিশ এয়ারলাইনস—কে দেশে অবতরণে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফ্লাইট পুনরায় চালু না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় কারাকাস।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড এবং প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন সেনা বর্তমানে ভেনিজুয়েলার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, এটি মাদকবিরোধী অভিযান। তবে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলছেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযান কেবল অজুহাত; প্রকৃত উদ্দেশ্য আমাকে ক্ষমতা থেকে সরানো।’

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, ভেনিজুয়েলার মাদক পাচার ‘স্থলে’ ঠেকানোর প্রস্তুতি ‘খুব শিগগিরই’ শুরু হবে। এই সময় মার্কিন বাহিনী অন্তত ২১টি নৌকায় হামলা চালানোর কথা জানায়, যাতে ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। তবে কোনো নৌকাতেই মাদক বহনের প্রমাণ দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছরের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভেনিজুয়েলার বিরোধী দল ও একাধিক বিদেশি সরকার মাদুরোর বিজয়কে স্বীকৃতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও চাপ অব্যাহত রেখেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও বলেছে, ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামের একটি শক্তিশালী মাদকচক্র ভেনিজুয়েলার সামরিক, গোয়েন্দা, আইনসভা ও বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে এবং এর নেতৃত্বে আছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো নিজেই। এই সংগঠনকে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবেও চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভেনিজুয়েলা এ অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো বলেছেন, ‘এটি সম্পূর্ণ কল্পনা।’

এমবি এইচআর