ভেনেজুয়েলার পর কোন দেশগুলো ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভেনেজুয়েলায় নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার হুমকির পর এবার ওয়াশিংটনের নজর পড়তে পারে আরও কয়েকটি দেশের দিকে।

Jan 6, 2026 - 15:41
 0  3
ভেনেজুয়েলার পর কোন দেশগুলো ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভেনেজুয়েলায় নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার হুমকির পর এবার ওয়াশিংটনের নজর পড়তে পারে আরও কয়েকটি দেশের দিকে। ট্রাম্প এই নীতিকে নিজের ভাষায় ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিনের আধুনিক সংস্করণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর ট্রাম্প সরাসরি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সেখানে পিটুফিক স্পেস বেস পরিচালনা করলেও পুরো দ্বীপটির ওপর প্রভাব বিস্তারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড আমাদের দরকার।’ রাশিয়া ও চীনের জাহাজ চলাচল এবং বিরল খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যকে তিনি এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে অবাস্তব ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছে।

এদিকে লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের নজরে রয়েছে কলম্বিয়াও। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেছেন, কলম্বিয়া ‘এক অসুস্থ মানুষের হাতে’ রয়েছে। তেল, কয়লা, সোনা ও পান্নার মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের পাশাপাশি মাদক চোরাচালানের কেন্দ্র হওয়ায় দেশটি বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আগ্রহের মধ্যে রয়েছে। কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের প্রশ্নে ট্রাম্পের মন্তব্য—‘আমার কাছে ভালোই শোনাচ্ছে’—নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানও ট্রাম্প প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আরও প্রাণহানি হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। গত বছর ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও কড়া হয়েছে।

উত্তর আমেরিকায় মেক্সিকোকে নিয়েও চাপ অব্যাহত রেখেছেন ট্রাম্প। সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের পুরোনো প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। মাদক ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে মেক্সিকোর ওপর আরও চাপ দেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে কিউবা নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল স্পষ্ট। নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায়। ট্রাম্পের দাবি, কিউবা অর্থনৈতিকভাবে পতনের মুখে থাকায় সেখানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, কিউবায় শাসন পরিবর্তনের বিষয়ে অত্যন্ত হিসেবি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয়ে থাকা দেশগুলোকে আরও সতর্ক অবস্থানে যেতে বাধ্য করবে।

এমবি এইচআর