ঢাকা–১৭ জামায়াতের সমাবেশে পতাকার রঙের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক
ঢাকা–১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর যুব–ছাত্র সমাবেশ ঘিরে জাতীয় পতাকার রঙের অননুমোদিত ব্যবহার নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমাবেশস্থলে মঞ্চের সিঁড়িতে লাল–সবুজ রঙের ব্যাকড্রপ ব্যবহারের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
ঢাকা–১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর যুব–ছাত্র সমাবেশ ঘিরে জাতীয় পতাকার রঙের অননুমোদিত ব্যবহার নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমাবেশস্থলে মঞ্চের সিঁড়িতে লাল–সবুজ রঙের ব্যাকড্রপ ব্যবহারের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে শুধু ভুল নয়, বরং জাতীয় প্রতীকের প্রতি অবমাননাকর আচরণ হিসেবে দেখছেন।
জাতীয় পতাকার নির্ধারিত ডিজাইন অনুযায়ী গাঢ় সবুজ (Bottle Green) পটভূমিতে লাল বৃত্ত—এটাই বাংলাদেশের পতাকার সরকারি রূপ। পতাকার রঙের এই অনুকরণ যেকোনোভাবে সিঁড়ি, ব্যানার বা পদদলিত হওয়ার মতো স্থানে ব্যবহার করা জাতীয় পতাকা বিধিমালা–১৯৭২ অনুযায়ী দণ্ডযোগ্য অপরাধের শামিল। সমাবেশে ব্যবহৃত রঙে সেই প্রতীকের প্রতিফলন থাকায় একে অনেকেই পতাকার মর্যাদাহানিকর বলেই মনে করছেন।
সমালোচকরা বলছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সিঁড়ি বা মঞ্চ সাজানোর জন্য বহু রঙই ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। অথচ স্বাধীনতার প্রতীক লাল–সবুজ বেছে নেওযা—তা সে ইচ্ছাকৃত হোক বা অজ্ঞতাজনিত—জাতীয় মানসিকতাকে আঘাত করার মতো আচরণ। এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তোলেন:
জাতীয় পতাকার প্রতি এমন অবিবেচনাপ্রসূত ব্যবহার কেন?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে কার্যক্রমটি জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রমাণ সংগ্রহও জটিল নয়।
পতাকা বিশেষজ্ঞ ও গবেষকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন—সবুজ ও লাল রঙের ব্যবহার করলেই তা জাতীয় পতাকা হয় না, তবে একই রঙের অনুকরণ এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না যা মর্যাদাহানিকর হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিবারই বিতর্ক তৈরি করে এবং জাতীয় প্রতীকের প্রতি সচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে।
জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা—এটি কেবল রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। কেউই যেন অসাবধানতা বা অজ্ঞতার নামে জাতীয় প্রতীকের প্রতি অবমাননাকর আচরণ না করে—সেই আহ্বান জানিয়েছেন দেশপ্রেমিক নাগরিকরা।
শেষ পর্যন্ত, লাল–সবুজের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখাই সবার কাছে সর্বোচ্চ বিবেচ্য হওয়া উচিত।
এমবি এইচআর

