থানায় আটক স্বামীকে খাবার দিতে গিয়ে স্ত্রীও গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় বাদী-বিবাদীর ধস্তাধস্তি থামাতে গিয়ে আঘাত পান এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। এ ঘটনায় বিবাদীকে গ্রেপ্তার করে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় থানায় নিয়ে আসা হয়।

Aug 26, 2025 - 19:32
Aug 26, 2025 - 19:33
 0  6
থানায় আটক স্বামীকে খাবার দিতে গিয়ে স্ত্রীও গ্রেপ্তার
ছবি-সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় বাদী-বিবাদীর ধস্তাধস্তি থামাতে গিয়ে আঘাত পান এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। এ ঘটনায় বিবাদীকে গ্রেপ্তার করে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় থানায় নিয়ে আসা হয়। আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে গ্রেপ্তার স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে গেলে স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, জমিসংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলার ধারা ইউনিয়নের কলনীপাড়া এলাকার শরীফা খাতুন বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাদী শরীফা খাতুনকে নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বিবাদীর বাড়িতে যান। এ সময় দুপক্ষই পুলিশের সামনেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ঝগড়া থামাতে গিয়ে এসআই শহিদুল ইসলামের চোখের কোণে অসাবধানতাবশত সামান্য আঘাত লাগে। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুনকে অবগত করেন।
পড়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ্র সাহা ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সিআর মামলার বিবাদী আব্দুর রশিদকে (৫৫) আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আরো জানায়, আব্দুর রশিদকে আটকের পর শারীরিক নির্যাতন করেন এসআই শুভ্র সাহা। কিন্তু শুভ্র সাহাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি শারীরিক নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন। 

আজ সকালে গ্রেপ্তার আব্দুর রশিদের স্ত্রী জাহানারা বেগম থানায় তার স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে গেলে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে বিকেলে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আদালতে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দেলায়ার হোসেন বলেন, ‘শরীফা একজন অসাধু মাদক ব্যবসায়ী। এই নারীকে নিয়ে এলাকাবাসী বিপাকে। গতকাল সোমবার এক মামলায় পুলিশ তদন্তে আসলে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাদী শরিফা আবদুর রশিদকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারে। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে রশিদ শরীফার দিকে তেড়ে গেলে এক পুলিশ সদস্যের গায়ে আঘাত লাগে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়। পরে আবার তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো এ ব্যাপারে আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে জানতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে জানতে হালুয়াঘাট থানায় গেলে ওসি হাফিজুর ইসলাম জানান, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। স্ত্রী এফআইআরভুক্ত আসামি। তাই তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখানে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

এমবি এইচআর