বেশি বয়সে সন্তান নিতে চাইলে যে কয়েকটি শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি

কর্মক্ষেত্রে একটি অবস্থান তৈরি করার পর অনেক নারীই মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এক্ষেত্রে অনেককেই বেশি বয়সে সন্তান নিতে হয়। কিন্তু আপনি চাইলেন আর মা হয়ে গেলেন, ব্যাপারটি এমন নয়; এর জন্য নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করতে হবে। 

Aug 27, 2025 - 19:40
 0  2
বেশি বয়সে সন্তান নিতে চাইলে যে কয়েকটি শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি
ছবি-সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কর্মক্ষেত্রে একটি অবস্থান তৈরি করার পর অনেক নারীই মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এক্ষেত্রে অনেককেই বেশি বয়সে সন্তান নিতে হয়। কিন্তু আপনি চাইলেন আর মা হয়ে গেলেন, ব্যাপারটি এমন নয়; এর জন্য নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করতে হবে। 

ত্রিশের পর থেকে মেয়েদের শরীরে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে থাকে। ৩৫-এর পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সম্ভাবনা আরও দ্রুত কমতে থাকে। আবার অন্তঃসত্ত্বা হলেও হরমোনের গোলমালের জন্য গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এতে ডিম্বাণুর গুণমান ভালো না হলে শিশু বিকলাঙ্গ হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। শুধু তা-ই নয়, মায়েরও স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে। 

এ জন্য যদি বেশি বয়সে সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে কিছু জরুরি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। বেশি বয়সে গর্ভধারণ করার আগে আপনার শারীরিক কিছু পরীক্ষা করাতে হবে, তা না করলে ভবিষ্যতে আপনার জীবনে অন্ধকার নেমে আসবে বলে জানান ভারতের ইনফার্টালিটি চিকিৎসক মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যদি বয়স আপনার ত্রিশের ওপর হয়, সে ক্ষেত্রে সবার আগে দুই রকম টেস্ট করিয়ে নেওয়া খুব দরকার— 

ক. আলট্রাসাউন্ড: এ পরীক্ষা করালে বোঝা যাবে— আপনার জরায়ু ঠিক কেমন পর্যায়ে রয়েছে এবং ডিম্বাণুর গুণগত মান কেমন। 

 খ. এএমএইচ টেস্ট: এই পরীক্ষা করালে বোঝা যাবে— জরায়ুতে কতগুলো ডিম্বাণু অবশিষ্ট আছে, মা হওয়া সম্ভব কিনা।

মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া দরকার। মা ও বাবা দুজনেই যদি বাহক হন, তাহলে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুরও থ্যালাসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এ ছাড়া রুবেলা টেস্ট করানো ভীষণ জরুরি। রুবেলার টিকা নেওয়া থাকলে গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের ভয় কম থাকবে। তা না হলে গর্ভাবস্থায় যদি কোনো রকম সংক্রমণ ঘটে, তাহলে শিশু সুস্থ ও স্বাভাবিক হবে না। তিনি বলেন, এখন এন্ডোমেট্রিয়োসিস ও পলিসিস্টিক ওভারির মতো সমস্যা ঘরে ঘরে। তাই মা হওয়ার কথা ভাবলে আগে থেকে এসবের চিকিৎসা করিয়ে নেওয়া ভালো।

মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, আপনার বয়স যদি ৩৯ বছর পেরিয়ে যায়, তবে সেই নারীর রক্তের এনআইপিটি টেস্ট করা উচিত। কারণ  তাতেই ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে বলে দেওয়া যায়— শিশুর ডাউন সিন্ড্রোম হতে পারে কিনা। 

এ ছাড়া বেশি বয়সে মা হওয়ার পরিকল্পনা করলে ‘প্রিকনসেপশনাল কাউন্সেলিং’ খুব জরুরি। ভারতে এমন ধারণা আগে কম ছিল, এখন বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে আগে আলট্রাসাউন্ড ও এএমআইচ পরীক্ষা করিয়ে দেখে নেওয়া হয়, স্বাভাবিকভাবে মা হওয়া সম্ভব কিনা। 

সন্তান ধারণ ও প্রসবের সময়ে কোনো জটিলতা হতে পারে কিনা। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, থাইরেয়ড আছে কিনা, তাও পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হয়। হার্টের রোগ থাকলেও মা হওয়া যায়। তখন আগে থেকেই শরীরকে এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে গর্ভস্থ শিশু ও মা দুজনের শরীরই সুস্থ থাকতে পারে বলে জানান মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়।

এমবি এইচআর