জেন জি ফ্যাশন ধারায় ‘স্যান্ডউইচ’ পদ্ধতি
দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার সময় অল্প ভেবেই সুন্দর সাজ তৈরি করা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফ্যাশনের দুনিয়ায় একের পর এক নতুন ধারা তৈরি হচ্ছে। কখনও নতুন কাট, কখনও নতুন রং; আবার কখনও নতুন ধরনের মিল খোঁজার কৌশল।
সম্প্রতি এমনই একটি পোশাক পরার কৌশল নিয়ে টিকটকে মাত করছে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশান জি।
এই কৌশলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্যান্ডউইচ’ নিয়ম। নাম শুনে অবাক লাগলেও আসলে এটি একটি সহজ পোশাক মেলানোর ফ্যাশন টিপস।
যা প্রতিদিনের পোশাককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নতুন এই ধারার নানান দিক তুলে ধরা হয়েছে।
কী এই স্যান্ডউইচ পদ্ধতি?
এই ধারায় খাবারের স্যান্ডউইচ যেমন হয়— ওপরে একটি রুটি, নিচে আরেকটি রুটি এবং মাঝখানে ভিন্ন ধরনের পুর, ঠিক তেমনি এই কৌশলে পোশাক সাজানো হয়।
মাথার ওপর বা শরীরের ওপরের অংশে যা পরা হবে (যেমন- জামা, শার্ট বা টপস), তার সঙ্গে পায়ের জুতার রং বা ধরন মিলিয়ে নিতে হবে।
আর মাঝখানে থাকা পোশাক, যেমন- প্যান্ট, স্কার্ট বা সালোয়ার হবে ভিন্ন রংয়ের বা ভিন্ন ছাপের।
অর্থাৎ, ওপরের পোশাক আর নিচের জুতা মিলবে দুই টুকরা রুটির মতো, আর মাঝের পোশাক হবে পুরের মতো ভিন্ন।
কে জনপ্রিয় করলেন এই কৌশল?
২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের ফ্যাশন প্রভাবক লিডিয়া টমলিনসন তার সামাজিক মাধ্যমে এই কৌশল নিয়ে পোস্ট করেন।
তিনি রিয়েল সিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “স্যান্ডউইচ নিয়ম মানলে যে কোনো পোশাকে ভারসাম্য তৈরি হয় এবং পুরো সাজসজ্জা হয়ে ওঠে মার্জিত। এরপর থেকে ধীরে ধীরে এটি ছড়িয়ে পড়ে এবং এখন টিকটকে তরুণদের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
যেভাবে অনুসরণ করা যায় এই নিয়ম
স্যান্ডউইচ নিয়ম মেনে পোশাক সাজানো আসলে খুবই সহজ। ধাপে ধাপে করলে যে কেউ সহজে এটি আয়ত্ত করতে পারবেন।
নিচের পোশাক বেছে নেওয়া: প্রথমে আলমারি থেকে একটি প্যান্ট, ফতুয়া, কুর্তি, স্কার্ট, কামিজ বের করুন। এটি হবে আপনার স্যান্ডউইচের পুর। অর্থাৎ, মাঝের অংশ।
ওপরের পোশাক মিলিয়ে নেওয়া: এখন এমন একটি জামা বা টপ বেছে নিতে হবে, যার রং বা নকশা জুতার সঙ্গে মানানসই হবে। এটি হল স্যান্ডউইচের প্রথম রুটি।
জুতা পরা: জুতার রং বা ধরন অবশ্যই ওপরের পোশাকের সঙ্গে মিল রাখতে হবে। এতে পুরো সাজে ভারসাম্য আসবে।
ব্যাগ ও অলংকার মেলানো: ব্যাগের রংও যেন জুতার সঙ্গে মেলে। একইসঙ্গে, ব্যাগে যদি ধাতব অংশ থাকে (যেমন রূপা বা সোনা রংয়ের চেইন), তবে অলংকারও সেই রংয়ের হওয়া ভালো।
পাতলা জ্যাকেট বা শ্রাগ যোগ করলে: পাতলা জ্যাকেট বা শ্রাগ পরতে চাইলে, সেটিও জুতার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।
এক্ষেত্রে ভেতরের টপসটি আবার নিচের পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মেলাতে হবে। এতে ওপরের-নিচের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
যে কারণে জনপ্রিয় হচ্ছে এই নিয়ম
টিকটকে দেখা যাচ্ছে, অনেক তরুণ এই কৌশল ব্যবহার করেছেন। তাদের মতে, এটি মানতে গেলে আলাদা করে অনেক ভাবতে হয় না, অথচ সাজসজ্জা হয় সুশৃঙ্খল।
এই ফ্যাশন কৌশল ব্যবহারকারীদের মন্তব্য- যেদিন পোশাক নিয়ে ভাবার সময় থাকে না, সেদিন স্যান্ডউইচ নিয়ম মেনে পোশাক পরলেই সুন্দর হয়ে যায়।
অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন- এই নিয়ম আসলে নতুন কিছু নয়, বরং আমরা বরাবরই অজান্তে এমনভাবে পোশাক মিলিয়ে আসছি।
বিতর্ক কোথায়?
সবার কাছে এই নিয়ম নতুন নয়। অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল নামকরণের মাধ্যমে আবার জনপ্রিয় করা হয়েছে।
তারা বলছেন, মিলিয়ে পোশাক পরা তো বহুদিনের অভ্যাস।
তবে লিডিয়া টমলিনসনের মতে, "বিশেষ নাম দেওয়ায় বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছে। আর তরুণরা দ্রুত আয়ত্ত করতে পারছেন। ফলে প্রতিদিন পোশাক বেছে নেওয়ার ঝক্কি কমছে।”
যে কারণে এটি কার্যকর
- ভারসাম্য তৈরি করে- ওপরের পোশাক ও জুতার রং এক হলে পুরো সাজ দেখতে ভারসাম্যপূর্ণ লাগে।
- সহজে করা যায়- আলাদা করে নতুন পোশাক না কিনেও পুরানো পোশাক দিয়েই এই কৌশল প্রয়োগ করা যায়।
- সময় বাঁচায়- সকালে দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার সময় অল্প ভেবেই সুন্দর সাজ তৈরি করা সম্ভব।
- আত্মবিশ্বাস বাড়ায়- সুসজ্জিত দেখালে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।
ফ্যাশন সচেতন তরুণদের কাছে বার্তা
জেনারেশান জি-এর কাছে টিকটক এখন নতুন ফ্যাশন শেখার জায়গা। তারা দ্রুত নতুন কিছু গ্রহণ করছে এবং নিজস্ব স্টাইলে তা প্রয়োগ করছে।
‘স্যান্ডউইচ’ নিয়মও তেমন একটি কৌশল, যা অনেকের কাছে হয়ত নতুন নয়। তবে নতুন প্রজন্মের কাছে এটি সহজ ও কার্যকর।
এমবি এইচআর