শিশু অধিকার ফোরাম, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই মাদকাসক্ত
রাজধানী ঢাকার ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম। ফোরামের দেওয়া তথ্য মতে, দেশে পথশিশুর সংখ্যা ৩৪ লাখ। এদের অর্ধেকই অবস্থান করছে রাজধানী ঢাকায়। এরমধ্যে ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ পথশিশু দারিদ্র্যের কারণে, ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাবা-মায়ের শহরে আসার কারণে এবং ১২ দশমিক এক শতাংশ কাজের সন্ধানে বাড়ি ছেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ে ‘পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুদের সুরক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তৃতা করেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী গোলাম তৌসিফ, বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. মোহাম্মদ খলিল উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ.এফ.এম গোলাম শরফুদ্দিন, নির্বাহী পরিচালক সাজেদুল কাইয়ুম দুলাল, মিশনের শিক্ষা ও টিভিইটি সেক্টরের যুগ্ম পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং কো-অর্ডিনেটর-মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন শেখ শফিকুর রহমান।
সেমিনারে কাজী গোলাম তৌসিফ বলেন, ‘পথশিশুদের বাদ দিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা প্রতিষ্ঠিত ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বাল্যবিবাহ রোধ ও শিশু সুরক্ষাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ডিআইজি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পথশিশুদের উন্নতির জন্য শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। তা না হলে উন্নতি হবে না। বাংলাদেশের থানাগুলোতে চাইল্ড ফ্রেন্ডলি কোনো রুম নেই।
প্রফেসর ড. গোলাম রহমান বলেন, ‘আহ্ছানিয়া মিশন খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর আদর্শ নিয়ে কাজ করছে।
ডা. মোহাম্মদ খলিল উল্লাহ বলেন, ‘পথশিশুদের নিয়ে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে তা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারছে কিনা তা পরিবীক্ষণ করতে হবে।’
বক্তারা বলেন, ‘পথশিশুরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই, খোলা আকাশ, পার্ক, ফুটপাত বা রেলস্টেশনই তাদের আশ্রয়। তারা মানুষের উচ্ছিষ্ট খেয়ে জীবন কাটায় এবং সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। ফলে তারা অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। পথশিশুদের দেশের সম্পদে পরিণত করা না গেলে তারা একসময় সমাজের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। এ কারণে পথশিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
এমবি এইচআর