ফ্রি ইন্টারনেট না দেওয়ায় যুবককে থানায় নির্যাতনের অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ফ্রি ইন্টারনেট সংযোগ না দেওয়ায় এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মেরুং পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেন (২৭) স্থানীয় একটি ক্যাবল ইন্টারনেট সংযোগকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ফাঁড়ির সামনে জড়ো হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। খবর পেয়ে দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে ওসির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বর্ণনায় আহত ইসমাইল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনদিন আগে ফাঁড়ির ইনচার্জ আমার কাছে ফ্রিতে ইন্টারনেট চান। না দিলে লাইন খুলে নেওয়ার হুমকি দেন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানাব বলে চলে আসি। আজ বিকেলে ফাঁড়ির সামনে গেলে আমাকে ভেতরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আমার মোটরসাইকেলকে চুরি করা বলে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। পরে এসআই নাজমুল হাসান দোতলা থেকে নেমে এসে আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে আমার দুই হাত গুরুতর জখম হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই নাজমুল হাসান গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে দীঘিনালা থানার ওসি মো. জাকারিয়া ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাসান আমার কাছে দোষ স্বীকার করেছেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবগত করেছি। ভুক্তভোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমবি/এসআর