৩০ আসন পেতে এনসিপির দর-কষাকষি; নির্বাচন বর্জনের হুমকি

Aug 16, 2025 - 10:55
 0  3
৩০ আসন পেতে এনসিপির দর-কষাকষি; নির্বাচন বর্জনের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশ এখন নির্বাচনী উত্তেজনায় সরগরম। রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ কৌশলে ভোটের মাঠে অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে। ভোটারদের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি দল তাদের অবস্থান ও শর্ত দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে। তবে শেষ পর্যন্ত সব দলকেই নির্বাচনী মাঠে দেখা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এখন পর্যন্ত তিনটি বড় রাজনৈতিক জোটের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বে ১২ দল, সমমনা জোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কয়েকটি দল একত্রে লড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টি, এনসিপি ও গণ-অধিকার পরিষদকেও এ জোটে আনার চেষ্টা চলছে। তবে বিএনপি স্পষ্ট করেছে যে তারা কোনোভাবেই জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নেবে না।

অন্যদিকে জামায়াত ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং হেফাজতে ইসলামের একাংশকে নিয়ে একটি আলাদা ইসলামী জোট গঠনের আলোচনা চলছে। জামায়াত নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্ত জোটে মামুনুল হকের অংশ না-ও থাকতে পারে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করছে, যেসব দল নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিচ্ছে তারা আসলে দর-কষাকষির কৌশল হিসেবে এটি ব্যবহার করছে।

আসন বণ্টন নিয়েও বড় ধরনের আলোচনা চলছে। বিএনপি ৬০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়, কিন্তু এনসিপি প্রায় ৩০টি আসনের দাবি করছে। সূত্র জানায়, বিএনপি ১৭টির বেশি আসন ছাড়তে আগ্রহী নয়। জামায়াতও আলাদা জোট গঠনের পাশাপাশি বিএনপির কাছে কমপক্ষে ৫০টি আসনের দাবি তুলেছে। এসব বিষয় নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচনে না যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে তারা।

জাতীয় পার্টিও হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আদালতের রায়ে জি এম কাদেরের নেতৃত্বে দলটির কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের একটি অংশ জাতীয় পার্টিকে বিকল্প শক্তি হিসেবে তৈরি করছে। ফলে রংপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা ও ফরিদপুরের বেশ কিছু আসনে জাতীয় পার্টি বিএনপি ও জামায়াতের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে। জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানিয়েছেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, নির্বাচনে না যাওয়ার হুমকি আসলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। শেষ পর্যন্ত সবাই নির্বাচনেই যাবে, কারণ ভোট ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণের আর কোনো পথ নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সঙ্গে তাদের আলোচনা নিয়মিত হচ্ছে। এখনো আসন বণ্টনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শরিকদের নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনে তারা ইতিবাচক।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্যান্য ইসলামী দলের সঙ্গে ঐক্যের চেষ্টা চললেও বিএনপি তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাবে না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থও মনে করেন, শেষ পর্যন্ত সব দলই নির্বাচনে অংশ নেবে। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, বিএনপি চাইলে বড় জোট গঠনের সম্ভাবনা আছে, তবে তাদের দল আপাতত সাংগঠনিক কাজে মনোযোগী।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলবে আরও কয়েক দফা। বিভিন্ন দল নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য কৌশলগত বক্তব্য দিলেও, মাঠের বাস্তবতায় তাদের শেষ লক্ষ্য নির্বাচনেই অংশ নেওয়া।

এমবি/এসআর