লাপাত্তা ঠিকাদার, ১০০ কোটির চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালের কাজ শেষ হবে কবে?

চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালের সবমিলিয়ে ৩০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল বাকি কাজ। তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পালিয়ে যায় আওয়ামী লীগ সরকার। তার সঙ্গে লঞ্চ টার্মিনালের ১০০ কোটি টাকার কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারও লাপাত্তা রয়েছেন। তাই টার্মিনাল না থাকায় ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা।

Aug 30, 2025 - 13:43
Aug 30, 2025 - 15:33
 0  4
লাপাত্তা ঠিকাদার, ১০০ কোটির চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালের কাজ শেষ হবে কবে?
ছবি-সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মূল টার্মিনালের ভিত্তির কাজ শেষ। তার ওপর পিলার তৈরির রডগুলোতে মরিচা পড়েছে। নির্মাণ কাজের সামগ্রী এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।


অভিযোগ আছে, এরইমধ্যে ঠিকাদারের বেশকিছু মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছেন দুর্বৃত্তরা। তাই টার্মিনাল নির্মাণ না হওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ বেশকিছু পন্টুন ও গ্যাংওয়ে স্থাপন করেছে। এতে শুধু লঞ্চ যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধা হয়েছে। তবে যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিশ্রামাগার, টয়লেট এবং অন্যান্য কোনো সুযোগ তৈরি করা হয়নি। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক লঞ্চ যাত্রীদের চাঁদপুরে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তবে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে দ্রুত অসমাপ্ত কাজ শেষ করার আশ্বাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের অন্যতম নদীবন্দর চাঁদপুর। এই বন্দরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের নৌপথ রয়েছে। দিনরাত চলছে অসংখ্য যাত্রীবাহী লঞ্চ। বিগত ২০০১ সালে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর নির্মাণ হয়নি স্থায়ী লঞ্চ টার্মিনাল। তবে ২০২২ সালে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে কাজ শুরুর দুই বছর পরই চালু হওয়ার কথা ছিল আধুনিক টার্মিনাল। তিনতলা এই টার্মিনালে থাকবে যাত্রীসেবার সবধরণের সুবিধা। কিন্তু সরকার পরিবর্তনে গা ঢাকা দেয় রানা বিল্ডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে গত কয়েক মাস আগে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। এতে নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা।

এ দিকে, বিশাল আকারের এই টার্মিনাল নির্মাণ করতে অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। তাই কাজ বন্ধ থাকায় বেকায়দায় পড়ে বিআইডব্লিউটিএ। তবে ঠিকাদারি ঝামেলা মিটিয়ে আবারো নতুন করে কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক হলে আগামী বছরের মাঝামাঝি কিংবা ডিসেম্বর মাসে চালু হবে এই লঞ্চ টার্মিনাল জানালেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে চাঁদপুরে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক ও বন্দর কর্মকর্তা বছির আলী খান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বিগত বছরের জুলাই আন্দোলনের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। যে কারণে টাকা পয়সা না পাওয়ায় তার লোকজনও চাঁদপুর থেকে চলে যান। তাই বিষয়টি সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।’

অন্যদিকে, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন না থাকায় বন্ধ রয়েছে নির্মাণ কাজ। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। তাই বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। যার ফলে পুরনো ঠিকাদারের চুক্তিপত্র বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেয়ার পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ে আবারো পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং আগামী জুন কিংবা তার আরও ৬ মাস বাড়িয়ে ২০২৬ এর ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে।

প্রথমে ৬৭ কোটি আরেক দফায় ব্যয় বাড়িয়ে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। তবে যাত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আবারো নির্মাণ কাজ শুরু এবং দ্রুত সময় তা শেষ করে চালু হবে দেশের মধ্যাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল।
এমবি এইচআর