আন্দোলনকারীদের আমরা কেন যেন দেবতা মনে করার চেষ্টা করেছি : জাহেদ উর রহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে একটা কথা বলার চেষ্টা করেছি। সেটা হলো, এই মুভমেন্টে যারা এসেছে, তাদেরকে আমরা কেন যেন দেবতা মনে করার চেষ্টা করেছি। তারা বৈষম্যবিরোধী শব্দটা বলছেন বলে আমরা খুবই কনভিন্সড হয়ে পড়েছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে একটা কথা বলার চেষ্টা করেছি। সেটা হলো, এই মুভমেন্টে যারা এসেছে, তাদেরকে আমরা কেন যেন দেবতা মনে করার চেষ্টা করেছি। তারা বৈষম্যবিরোধী শব্দটা বলছেন বলে আমরা খুবই কনভিন্সড হয়ে পড়েছি।’
রবিবার (২৭ জুলাই) তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করেছি, তারা আসলেই বৈষম্যবিরোধী একটা সমাজ চান। মোটেই না। আমরা এভাবে যদি খেয়াল করি, তারা কোটা নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ার কারণে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি পাচ্ছিলেন না। তারা যেটার জন্য চেয়েছিলেন, সেটা যাতে তুলে দেওয়া হয়।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তারা মুভমেন্টে নেমেছিলেন এবং এই চাকরিটা ইটসেলফ একটা বৈষম্য সৃষ্টিকারী চাকরি। আমাদের এখানে যে ধরনের অবৈধ উপার্জনের সুযোগ আছে, এখানে একবার ঢুকতে পারলে একজন মানুষ ফুলে ফেঁপে অতি দ্রুত ধনী হয়ে যান। আমি বলছি না সবাই, খুবই বড় একটা অংশ করাপশনে জড়িত হতেন। এরা (আন্দোলনকারীরা) শেখ হাসিনার অধীনে ওই সিস্টেমের পার্ট হতে চেয়েছে এবং বেশিরভাগই চেয়েছেন দুটো ক্যাডারে চাকরি পেতে।
প্রশাসন ও পুলিশ। এই প্রশাসন ও পুলিশই মূলত শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য চেষ্টা করতো।’
তিনি বলেন, ‘একটা টকশোতে এবি পার্টির ফুয়াদ ভাই ছিলেন, হান্নান মাসউদ ছিলেন। আমি সেখানে এভাবে বলছিলাম, যদি বিসিএস এ চাকরি হতো, হান্নান মাসউদ যদি পুলিশে চাকরি পেতেন। আর পল্টনে যদি এবি পার্টি প্রোগ্রাম করতো, সেখানে যদি হান্নান মাসউদ দায়িত্বপ্রাপ্ত হতেন এবং তাকে ফুয়াদ ভাইকে পেটানোর কথা হতো, হান্নান মাসুদ তাকে পেটাতেন।
যারা প্রশাসনে, তারাই ইউএনও হয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার বা ডিসি হয়ে রিটার্নিং অফিসার হতেন বা হয়েছেন। শেখ হাসিনার সময় চুরি ডাকাতির নির্বাচনগুলো তথাকথিত সব তারা করেছেন। এটা নিয়ে তো আমাদের মধ্যে কোনো কনফিউশন নেই।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘তারা (আন্দোলনকারীরা) আসলে মূলত এই সিস্টেমেরই পার্ট হতে চেয়েছেন। এখন আমরা কেউ কেউ যদি মনে করি তারা এই মুভমেন্টে পরে এসে একেবারে সহিশুদ্ধ মানুষ হয়ে যাবেন। এটা হতে পারে না। আসলে যেটা হয়েছিল, তারা এই আন্দোলনে সামনে থাকার ফলে সমাজে দীর্ঘদিন থেকে নানা রকম ক্ষোভে ক্ষুব্ধ মানুষজন এসে তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে গেছেন। শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। পরবর্তীতে তারা সেই ক্রেডিট নিয়ে নিজেদেরকে ভীষণভাবে নীতিবান, ভীষণভাবে বৈষম্য বিরোধী, নয়া বন্দোবস্ত, নানান সব আলাপটালাপ করে রাজনীতির মাঠে থেকেছেন।
তিনি বলেন, ‘এগুলো তাদের রাজনৈতিক রেটরিক। আদতে তারা একই মানুষ। এই সমাজে পচে যাওয়া মানুষেরই অংশ তারা। তাদের বিরুদ্ধে তদবিরবাজি, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির এসব অভিযোগ আগেও ছিল। আমরা জানি আসলে এগুলো কি হয়। তারা কি করেন, কাদের কাছে যান। আমাদেরই পরিচিত লোকজন বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে কি ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন এগুলো আমরা সবাই জানি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ফরমালি ছাত্র প্রতিনিধি দেওয়া হয়েছে। তারা কী করেছেন, ইনফরমালি তাদের কি ক্ষমতা, এগুলো সবার কাছে খুব স্পষ্ট। রাজনৈতিক দল করার আগে তারা বিভিন্ন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সাথে কী ধরনের আন্ডারস্ট্যান্ডিং করেছেন, কথা বলেছেন, কোনো কিছুই নতুন না। সুতরাং আমরা অবাক হওয়ার কোনো কারণ নেই, এগুলো হওয়ারই কথা ছিল।’
এমবি/এইচআর