ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে সেখানে নির্মিত হচ্ছে “জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ”

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। বুধবার সকাল থেকে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান।

Jul 10, 2025 - 14:32
 0  3
ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে সেখানে নির্মিত হচ্ছে “জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ”

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। বুধবার সকাল থেকে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান।

প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান বলেন, সারা দেশে অভিন্ন বাজেটে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। ফরিদপুরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। আগামী ৫ অগাস্টের আগেই এ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে এ কাজের জন্য কত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা তার জানা নেই বলে জানান এই প্রকৌশলী।

ফরিদপুর শহরের হাসিবুল হাসান লাবলু সড়কের উত্তর পাশে যেখানে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি ছিল সে জায়গাটি জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন। ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে শেখ রাসেল ফাউন্ডেশনের নামে ২৬ শতাংশ জমিটি একসনা বন্দোবস্তের ভিত্তিতে ইজারা নেন শামীম হক; যিনি পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

শেখ রাসেল স্কোয়ার নামে পরিচিতি পাওয়া জায়গাটিতে পরবর্তীতে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ও নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই কার্যালয়টি উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ ও আব্দুর রহমান।

এর প্রায় একবছর পরই জুলাই আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরদিন ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতার দ্বিতীয় দফার হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় কার্যালয়টি।

পরে গত রোজা ও কোরবানির ঈদের সময় ওই জায়গাটি দুঃস্থদের জন্য স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বুধবার বেলা ১২টার দিকে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের যে কাঠামোটুকু অবশিষ্ট ছিল তা বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা হচ্ছে। এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন সাত জন নির্মাণ শ্রমিক। কাজটি তদারকি করছে ঠিকাদার সোহান আল মামুন।

সোহান আল মামুন বলেন, গণপূর্তের এ কাজটির দায়িত্ব তারা পেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে তারা চেষ্টা করছেন।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দেশব্যাপী সরকারি উদ্যোগে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফরিদপুর শহরে কোথায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা যায় তা ঠিক করতে সোমবার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করেন। তিনি আরও বলেন, তারা বর্তমানে যে জায়গায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে সে জায়গাসহ পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে একাত্তরের শহীদের নাম সম্বলিত বেদীর আশেপাশে এবং রাজবাড়ি রাস্তার মোড় এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

এর মধ্যে নিরাপত্তাসহ সবদিক বিচার বিশ্লেষণ করে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের জায়গাটি সবচেয়ে যুৎসই হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন আরও বলেন, “এ নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হবে এবং আগামী ৫ অগাস্ট সরকারি উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে নবনির্মিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের এই বেদীতেই পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হবে।

এমবি/এসআর