বার্ষিক পরীক্ষার আগে অনড় কর্মবিরতিতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা

বার্ষিক পরীক্ষা সামনে রেখে টানা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তিন দফা দাবিতে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে সারাদেশের সাড়ে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

Nov 30, 2025 - 12:47
 0  2
বার্ষিক পরীক্ষার আগে অনড় কর্মবিরতিতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

বার্ষিক পরীক্ষা সামনে রেখে টানা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তিন দফা দাবিতে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে সারাদেশের সাড়ে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আগামী সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রোববার রাতের মধ্যে দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পেলে পরীক্ষা বর্জনের হুমকি দিয়েছেন তারা।

শিক্ষক নেতারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে গত ১২ নভেম্বরের মধ্যে ১১তম গ্রেড দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক হতাশ হয়ে কর্মস্থলে সীমিত আকারে আন্দোলন চালালেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান বলেন, “আমরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছি। রোববারের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না এলে পরীক্ষা বর্জন ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।”

সহকারী শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে জানি, কিন্তু আমাদের মর্যাদার লড়াইয়ে আর আপস নয়। আমরা বারবার অপেক্ষা করেছি, আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু প্রজ্ঞাপন ছাড়া আর আলাপ নয়।”

আরেক শিক্ষক মাহফুজ আলম বলেন, “আমরা জাতি গড়ার কারিগর, অথচ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি নেই। তাই বাধ্য হয়েই কর্মবিরতিতে আছি।”

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সহকারী শিক্ষকনির্ভর। মোট ৬৫ হাজার ৫৬৯টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮১। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক প্রায় ৩৫ হাজার; বাকিরা সহকারী শিক্ষক। প্রাথমিক পর্যায়ের ১ কোটি ৯৭ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮১৫ জন সরকারি স্কুলে পড়েন—যা মোট প্রাথমিক শিক্ষার্থীর ৫৬ শতাংশের কাছাকাছি।

সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি—গ্রেড উন্নীতকরণ, উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেড পেলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো—
১. বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যা সমাধান
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা

৮–১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। পরবর্তীতে সরকারের আশ্বাসে তারা কর্মস্থলে ফিরে গেলেও অগ্রগতি না থাকায় আবার কর্মবিরতিতে ফিরে যান।

গত ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান আন্দোলনকারীদের বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন না করার আহ্বান জানালেও শিক্ষকরা দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়।

এমবি এইচআর