ঋণঝুঁকিতে বাংলাদেশ ,ঋণ হবে সাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকায়।

Jul 12, 2025 - 14:15
Jul 12, 2025 - 14:16
 0  3
ঋণঝুঁকিতে বাংলাদেশ ,ঋণ হবে সাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকায়। সেই হিসাবে আগামী বছর ঘোষিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচিত সরকারের কাঁধে শুরুতেই বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা চাপবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বলছে, চলতি অর্থবছর শেষে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে দেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়াবে ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা; আর বিদেশি ঋণের স্থিতি ১০ লাখ ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। 

চলতি অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তিন বছর মেয়াদি মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি-বিবৃতি পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিবৃতিতে অর্থ বিভাগ প্রাক্কলন করেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ লাখ ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তার পরের বছর শেষে ঋণ ২৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। 

অর্থ বিভাগ যখন এই প্রাক্কলন করছে, তখন দেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ভালো নয়। রাজস্ব-জিডিপির হার ৮ শতাংশের ঘরে। আবার ২০২৬ সালের শেষে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তখন বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হবে উচ্চ সুদে। ঋণ পরিশোধের সময়ও কমবে অর্থাৎ স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ আর পাওয়া যাবে না।

অর্থ বিভাগের নীতি-বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের ঋণের স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জন্য ঋণে স্থিতি প্রাক্কলন করা হয় ২২ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। তবে অন্তর্বর্তী সরকার তা সংশোধন করে ২১ লাখ ১১ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছে। 

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আইএমএফের হিসাবে ঋণ-জিডিপির অনুপাত নির্ধারিত সীমার মধ্যে আছে বাংলাদেশ—এই কথা বলে আগের সরকার বাছবিচারহীনভাবে ঋণ নিয়েছে। এ ছিল অনেকটা অন্ধকারে শিস দিয়ে নিজেকে সাহস দেওয়ার মতো। এ অবস্থার অবসান চাইলে ভবিষ্যতে সরকারকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

 

এমবি/এসআর