প্রাক্তনের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হলে কেমন আচরণ করবেন
সব ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায় না। অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সদিচ্ছা সত্ত্বেও সম্পর্ককে পরিণতি দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। কয়েক বছর আগে আলোচিত বড় ছেলে নাটকেও আমরা দেখেছি, ভীষণ ভালোবেসেও কেবল পরিস্থিতির কারণে তাঁরা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

নিজস্ব প্রতিনিধি: সব ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায় না। অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সদিচ্ছা সত্ত্বেও সম্পর্ককে পরিণতি দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। কয়েক বছর আগে আলোচিত বড় ছেলে নাটকেও আমরা দেখেছি, ভীষণ ভালোবেসেও কেবল পরিস্থিতির কারণে তাঁরা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
প্রেমে এক পক্ষের অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়া ছাড়াও অনেক ঠুনকো কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে সম্পর্ক। চারপাশে হরহামেশাই এমন ঘটনা দেখা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায়, বিচ্ছেদের পর দুজনের মধ্যে শ্রদ্ধা-সম্মানের ছিটেফোঁটাও আর অবশিষ্ট নেই। সম্বোধন তুমি থেকে তুইতে গিয়ে ঠেকেছে।
অনেক সময় বিষয়টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্তও গড়ায়। আক্রোশে কেউ কেউ মানুষটির ক্ষতি করতেও পিছপা হন না। এ–জাতীয় খবর সংবাদপত্রেও দেখা যায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট তানজির আহম্মদ বলেন, ‘ভালোবাসার মূল ধারণা আরেকজন মানুষকে ভালো রাখা। তাই বিচ্ছেদের পরও প্রাক্তনের ভালো চাওয়াটা অব্যাহত রাখা উচিত। কখনো একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে কেউ কেউ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ভয়ে কথা বলতে চান না। মুখোমুখি হয়ে গেলে উচিত হবে, বেশি না হলেও অন্তত সৌজন্যমূলক কথা বলা। অনেক সময় একটা স্বাভাবিক হাসিও সৌজন্যের প্রকাশ ঘটাতে পারে।
সেটা কী সম্ভব!
অনেকে মনে করেন, শেষ পর্যন্ত হাত যে ছেড়েই দিল, তাকে শ্রদ্ধা–সম্মান দেখানোর কী প্রয়োজন? জীবনের সব প্রচেষ্টায় সবাই যেমন সফল হতে পারেন না, একইভাবে ভালোবাসলেই দুজন একসঙ্গে আজীবন থাকা যাবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বিখ্যাত উপন্যাস দ্য ওল্ডম্যান অ্যান্ড দ্য সির শিক্ষা হলো, ফলাফল যা–ই হোক, চেষ্টা করে যেতে পারার মধ্যেই নিহিত আছে স্বয়ংসিদ্ধতা। ভালোবাসার ক্ষেত্রেও তা–ই। নিরবধি ভালোবেসে যেতে পারার মধ্যেই নিহিত আছে ভালোবাসার সৌন্দর্য।
কারও প্রেমে পড়ার জন্য অনন্তকাল বা অশেষ মুহূর্তের প্রয়োজন পড়ে না। একটি কথা, একটি মুহূর্ত বা একটি চাহনি কারও মায়ায় জড়িয়ে পড়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে গেলে, একে অপরকে নিয়ে কাদা–ছোড়াছুড়ি করলে, কুৎসা রটালে আপনার সম্পর্কেও আড়ালে নানা কথা বলতে পারেন অন্যরা।
তাই নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতেও কুৎসা রটানো থেকে বিরত থাকা উচিত। বরং এ সময়ে ভেবে দেখা জরুরি, সত্যিই কি ভেঙে যাওয়া সম্পর্কটা ভালোবাসা ছিল? ভালোবাসা তো অনির্বচনীয় সত্যের মতো। সম্পর্কের ইতি মানেই সেটা ফুরিয়ে যাওয়া নয়।
তাহলে করণীয়? ব্রাকের মনোবিদ নাদিয়া নাসরিন মনে করেন, এ সময়ে জরুরি হলো নিজের অনুভূতিগুলোর যত্ন নেওয়া। একই সঙ্গে বিচ্ছেদকেও মেনে নেওয়া। এ সময়ে কাছের বিশ্বস্ত কোনো মানুষকে বেছে নিয়ে তাঁর সঙ্গে নিজের অনুভূতি শেয়ার করা যায়। এতে চাপমুক্ত থেকে সঠিকভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়। তবে এই কাছের মানুষ নির্বাচনে নিজের বিচারবুদ্ধি কাজে লাগানো জরুরি।
এমবি/এইচআর