আ.লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১২ দফা সুপারিশ ৬ মানবাধিকার সংস্থার

Oct 20, 2025 - 16:32
 0  2
আ.লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১২ দফা সুপারিশ ৬ মানবাধিকার সংস্থার

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১২টি সুপারিশ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে খোলাচিঠি দিয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। চিঠিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইন সংস্কারের উদ্যোগের প্রশংসা জানানো হলেও আরও কার্যকর সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই খোলাচিঠিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার যেন মৌলিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত জোরদার করে এবং নিরাপত্তা খাতে কাঠামোগত সংস্কার শুরু করে।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে— হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ফর্টিফাই রাইটস, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।

চিঠিতে বলা হয়, “আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে নিরাপত্তা খাতে এখনো কাঠামোগত সংস্কার হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য জবাবদিহিতার প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে না।”

সংস্থাগুলোর ১২ দফা সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

১. জবাবদিহিতা ও বিচারের নিশ্চয়তা: গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে; মৃত্যুদণ্ডে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিতে হবে।
২. নিরাপত্তা খাতে সংস্কার: র‌্যাব বিলুপ্তি ও ডিজিএফআইয়ের ক্ষমতা সীমিত করে মানবাধিকারসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
৩. গুমের অপরাধ নির্ধারণ ও তদন্ত কমিশন শক্তিশালীকরণ: ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ দ্রুত পাস করতে হবে।
৪. জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সংস্কার: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে।
৫. ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষায় আইন সংস্কার: সাইবার সিকিউরিটি, বিশেষ ক্ষমতা ও মানহানির আইন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে।
৬. ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও নজরদারি সীমিতকরণ: তথ্য সুরক্ষায় নাগরিকের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক সুরক্ষা: সাংবাদিকদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে।
৮. রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার: প্রমাণবিহীন সব রাজনৈতিক মামলা বাতিলের আহ্বান।
৯. আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দেওয়া নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্রের পথে বাধা— এটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
১০. সিভিল সোসাইটি ও এনজিও স্বাধীনতা: এনজিও ব্যুরো সংস্কার ও বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
১১. রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা: জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বন্ধ ও জীবিকার সুযোগ বাড়াতে হবে।
১২. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা: মিয়ানমার ইস্যুতে আইসিসির তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা ও অভিযুক্তদের হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই অল্প সময়ের মধ্যে মানবাধিকার সুরক্ষায় স্থায়ী সংস্কার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য জরুরি।”

এমবি/এসআর