যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, প্রাণ গেল ১৮ ফিলিস্তিনির
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দিনভর স্থল ও আকাশপথে চালানো এ হামলায় অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন। খবর আলজাজিরা।
দক্ষিণ রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হামাসের পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর গাজায় শক্তিশালী হামলার নির্দেশ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এর পরপরই উত্তর গাজা শহরের সাবরা পাড়ায় একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় চারজন নিহত হন। এছাড়া দক্ষিণ খান ইউনিস এলাকায় আরও পাঁচ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটে।
গাজার চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গাজার আকাশে এখনো টহল দিচ্ছে ইসরায়েলি ড্রোন। আল-শিফা হাসপাতালের পাশেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
অন্যদিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডস। তাদের দাবি, ইসরায়েলের এই আগ্রাসন চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে নিখোঁজ এক জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে হামাস।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বড়সড় কোনো উস্কানি এলে মৃতদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং বাকী ১৩ জন জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর বিলম্বিত হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স দাবি করেছেন, “যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে। ছোটখাটো সংঘর্ষ ঘটতে পারে, তবে আমরা আশা করি শান্তি স্থিতিশীল থাকবে।”
অন্যদিকে রাফাহ এলাকায় সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে হামাস। সংগঠনটি জানিয়েছে, ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন, এবং তারা এখনো চুক্তি মেনে চলছে।
গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নতুন হামলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক এলাকা এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, হাসপাতালগুলোতেও ভরে যাচ্ছে নিহতদের মরদেহ।
এমবি/এসআর

