নদীতে মাসে গড়ে মিলছে ৪৩ মরদেহ, পরিচয় শনাক্ত হচ্ছে না ৩০ শতাংশেরই

বাংলাদেশের নদীগুলো থেকে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। নৌ পুলিশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতি মাসে গড়ে ৪৩টি করে মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার হচ্ছে

Aug 27, 2025 - 13:25
 0  3
নদীতে মাসে গড়ে মিলছে ৪৩ মরদেহ, পরিচয় শনাক্ত হচ্ছে না ৩০ শতাংশেরই
ছবি, সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের নদীগুলো থেকে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। নৌ পুলিশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতি মাসে গড়ে ৪৩টি করে মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার হচ্ছে, যা গত বছরের মাসিক গড় (৩৭টি) থেকে অনেকটাই বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মরদেহেরই কোনো পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

নৌ পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালে এ পর্যন্ত ৪৪০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে ১৪১টিরই পরিচয় মেলেনি। অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে উদ্ধার হওয়া ৩০১টি মরদেহের মধ্যে ৯২টিই এখনো অজ্ঞাত।

নৌ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অধিকাংশ মরদেহ দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় পচে-গলে যায়। এর ফলে আঙুলের ছাপ বা চেহারা দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণেও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় বেগ পেতে হয়।

অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, অপরাধীরা মরদেহ গুম করার জন্য নদীকে একটি ‘ডাম্পিং স্টেশন’ হিসেবে ব্যবহার করছে। যেহেতু নদীতে ফেলে দেওয়া মরদেহ শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন, তাই অপরাধীরা এই পদ্ধতিকে নিরাপদ মনে করছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদীর যেসব জায়গায় বেশি মরদেহ পাওয়া যায়, সেখানে নজরদারি বাড়ানো এবং সব বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

সম্প্রতি বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি মরদেহ এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ২৩শে আগস্ট একই দিনে বুড়িগঙ্গা থেকে এক নারী ও শিশুর মরদেহ এবং পরে আরও দুই তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের হাত বাঁধা ছিল। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধীরা নদীকে তাদের অপকর্মের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখছে।