সেন্টমার্টিনে রিসোর্ট বিক্রির হিড়িক, পর্যটক সীমিতকরণে জীবিকা হারাচ্ছেন দ্বীপবাসী

Oct 20, 2025 - 16:00
 0  2
সেন্টমার্টিনে রিসোর্ট বিক্রির হিড়িক, পর্যটক সীমিতকরণে জীবিকা হারাচ্ছেন দ্বীপবাসী

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে পর্যটন সীমিতকরণের প্রভাব ভয়াবহ আকার নিয়েছে। পর্যটক কমে যাওয়ায় একের পর এক রিসোর্ট ও হোটেল বিক্রি করছেন স্থানীয়রা। একসময় যেখানে রিসোর্ট বা জমি কেনার জন্য সারাদেশের ব্যবসায়ীরা ভিড় জমাতেন, এখন সেই দ্বীপের মানুষই ভিটেমাটি বিক্রি করে দ্বীপ ছাড়ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেন্টমার্টিনের মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল মাছ ধরা ও ট্যুরিজম ব্যবসা। গত কয়েক বছরে পর্যটনই হয়ে উঠেছিল তাদের আয়ের মূল উৎস। কিন্তু বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনায় গত বছর থেকে দ্বীপে পর্যটক সীমিত করা হয়।

নভেম্বর থেকে পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও রাত্রি যাপন নিষিদ্ধ থাকে। ফলে কক্সবাজার থেকে টানা ছয় ঘণ্টা নৌযাত্রা করে মাত্র দুই ঘণ্টা অবস্থান শেষে ফেরত আসা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এর ফলে নভেম্বর-ডিসেম্বরে পর্যটক যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কেবল জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অল্প কিছুদিনের জন্য রাত্রি যাপনের অনুমতি দেওয়া হলেও সেই সামান্য আয় দিয়ে সারা বছরের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে স্থানীয়দের জন্য।

সেন্টমার্টিন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ আবুল হোসেন জানান, ২০১৭ সালে তিনি ২০ শতক জমিতে ‘দ্বীপ কুটির’ নামে একটি রিসোর্ট গড়ে তুলেছিলেন। আগে রিসোর্টের আয়েই সংসার চলতো, কিন্তু এখন পর্যটক না থাকায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, “সরকার একদিকে পর্যটক সীমিত করেছে, অন্যদিকে বিকল্প আয়ের আশ্বাস দিয়ে কিছু ত্রাণ দিয়ে দায় সারছে। এতে দ্বীপবাসীর জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”

সেন্টমার্টিন হোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুর রহিম জিহাদী বলেন, “জীববৈচিত্র্য রক্ষার নামে দ্বীপবাসীর রুটি-রুজি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটি পরিকল্পিতভাবে পর্যটন বিমুখ করার অংশ।”

তবে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, “নভেম্বর থেকে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। রাত্রি যাপনের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।”

এমবি/এসআর