শেখ হাসিনার রায় নিয়ে আদালতের ব্যাখা দুর্বল: বার্গম্যান

বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও কলামিস্ট ডেভিড বার্গম্যান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি মনে করেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার ফোনালাপকে হত্যার আদেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা আদালতের একটি ভুল সিদ্ধান্ত।

Nov 23, 2025 - 19:26
 0  14
শেখ হাসিনার রায় নিয়ে আদালতের ব্যাখা দুর্বল: বার্গম্যান
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও কলামিস্ট ডেভিড বার্গম্যান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি মনে করেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার ফোনালাপকে হত্যার আদেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা আদালতের একটি ভুল সিদ্ধান্ত। প্রসিকিউশনের দাবি ও ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত—দুটোরই ভিত্তি দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বার্গম্যানের মতে, ওই ফোনালাপে শেখ হাসিনা আদালতের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চেয়েছিলেন। এতে কোথাও সড়কে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশের কথা নেই। তাঁর বিশ্লেষণে উঠে আসে, কথোপকথনটি আদালতের যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তা প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয়, শেখ হাসিনা ফোনে ‘ফাঁসি’ শব্দটি হত্যা অর্থে ব্যবহার করেছেন, এরপরও কথোপকথনের কোথাও তিনি বলেননি যে তিনি ইতিমধ্যে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ বিচারক এই দাবি করেছেন। রায়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে—১৪ জুলাই শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন—তা প্রমাণহীন এবং প্রসিকিউশনের যুক্তিও দুর্বল।

বার্গম্যান বলেন, এই দাবি যদি টিকে না থাকে, তাহলে ১৬ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডগুলোকে রাষ্ট্রের নীতি অনুযায়ী সংঘটিত বলে আখ্যা দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। আর মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণে এই বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাইব্যুনালে যথাযথ যোগ্য ও অভিজ্ঞ ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ করা হয়নি। দক্ষ আইনজীবী থাকলে তাঁরা অবশ্যই ১৪ জুলাইয়ের কথোপকথন নিয়ে প্রসিকিউশনের ব্যাখা বিশদভাবে খতিয়ে দেখতেন। কিন্তু এর বদলে ডিফেন্স টিম শুধু দাবি করেছে, ফোনালাপগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা। এমনকি এসব অডিওর স্বাধীন পরীক্ষাও করানো হয়নি।

বার্গম্যানের মতে, ডিফেন্সের ব্যর্থতা বিচারকদের দায়িত্ব কমায় না। প্রমাণগুলো স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের দায়িত্ব আদালতেরই ছিল, বিশেষ করে ১৪ জুলাইয়ের ফোনালাপের ক্ষেত্রে। কিন্তু আদালত সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি বলে তাঁর ধারণা।

এমবি এইচআর