নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক, মানতে হবে ইসির নির্দেশ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

Jan 27, 2026 - 11:50
 0  3
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক, মানতে হবে ইসির নির্দেশ
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসিতে নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার মাধ্যমে এসব পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ কার্যকর থাকবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারীরাই কেবল ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে কমিশন অনুমোদিত ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ কঠোরভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

ইসি পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুর জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল (https://pr.ecs.gov.bd/) চালু করেছে। অনুমোদিত ৮১টি সংস্থার সকল পর্যবেক্ষককে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উক্ত পোর্টালে ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে পর্যবেক্ষকরা অনলাইন থেকেই পরিচয়পত্র ও স্টিকার ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে পারবেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের কার্ড ও স্টিকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের আবেদন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার মনোনীত কর্মকর্তারা অনুমোদন করবেন। রিটার্নিং অফিসারদের জন্য ইতোমধ্যে পোর্টালে আলাদা ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র সার্বক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে। পর্যবেক্ষণকালে ভোটারের ভোটাধিকার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাজের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে এবং কোনোভাবেই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে এমন স্থানে স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করা যাবে, যাতে ভোট গ্রহণে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। তবে কোনো অবস্থাতেই ভোট প্রদানের গোপন কক্ষে প্রবেশ করা যাবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো স্বার্থের সংঘাত দেখা দিলে বা অন্য কোনো পর্যবেক্ষকের অসঙ্গত আচরণ নজরে এলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অবহিত করতে হবে। সংবিধান ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন-বিধি সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সহায়তা করাই পর্যবেক্ষকদের মূল দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছে কমিশন।

এছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য, প্রার্থীর সমর্থক বা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। পর্যবেক্ষণের পুরো সময়জুড়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রতীক, চিহ্ন বা পরিচয় বহনকারী পোশাক পরিধান বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, এজেন্ট বা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা সংস্থার কাছ থেকে উপহার বা সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্বাচন চলাকালে গণমাধ্যমে এমন কোনো মন্তব্য করা যাবে না, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা ব্যাহত করতে পারে।

এমবি এইচআর