আপিল শুনানির মুখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টবি ক্যাডম্যানের ইস্তফা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ ব্যারিস্টার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ টবি ক্যাডম্যান। তিনি তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছেন।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ ব্যারিস্টার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ টবি ক্যাডম্যান। তিনি তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ব্রিটিশ মানবাধিকার কর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
টবি ক্যাডম্যানের এই পদত্যাগের খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশনের করা আপিলটি সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
ডেভিড বার্গম্যান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, টবি ক্যাডম্যান এখনও পদত্যাগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করেননি। তবে ট্রাইব্যুনাল যখন ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় রায় ঘোষণার একেবারে প্রাক্কালে রয়েছে, ঠিক সেই সময়েই এই পদত্যাগের ঘোষণা এসেছে।
এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। এই সাজাকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল দায়ের করেন। ওই আপিলের শুনানি মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে দণ্ডের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল এবং আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, আইনের নির্ধারিত সময়সীমা বজায় রাখতেই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে জরুরি শুনানির আবেদন করা হয়।
গত ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে ২০ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করেন। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আমৃত্যু কারাদণ্ড অপর্যাপ্ত এবং অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডই উপযুক্ত বলে প্রসিকিউশন মনে করছে।
প্রসঙ্গত, গত জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো একীভূত করে দুটি ভাগে বিভক্ত করেন। প্রথম অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় অভিযোগের সাজা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই আপিল দায়ের করা হয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে টবি ক্যাডম্যানের মতো একজন আন্তর্জাতিক উপদেষ্টার পদত্যাগ ট্রাইব্যুনালের চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে এখন আইন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
এমবি এইচআর

