গণভোট নিয়ে ৮ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিল সরকার
আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। ইতোমধ্যে গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করেছে সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার ড. মো. রেজাউল করিম।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। ইতোমধ্যে গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করেছে সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার ড. মো. রেজাউল করিম। এদিকে বুধবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল পেজে গণভোট বিষয়ে আটটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকার প্রকাশিত গণভোট–সংক্রান্ত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—
১. জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই কেন্দ্রে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
২. সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকাই গণভোটের ভোটার তালিকা হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
৩. দুই ভোটের সময়সীমা একই—একই সময়ে ভোট শুরু ও শেষ হবে।
৪. নির্বাচন ও গণভোটের জন্য আলাদা রঙের ব্যালটবক্স ও ব্যালটপেপার থাকবে।
৫. নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একইসঙ্গে দুই ভোটের দায়িত্ব পালন করবেন।
৬. গণভোটে থাকবে মাত্র একটি প্রশ্ন—‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে মত জানাতে হবে।
৭. প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে গণভোটে অংশ নিতে পারবেন।
৮. একই সময়ে হবে ভোট গণনা; গণভোটের গণনা পদ্ধতি নির্বাচন গণনার মতোই হবে।
গণভোট অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫–এ বর্ণিত সংবিধান সংস্কার–সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাই করতেই গণভোটের বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র–জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট—একটি উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য থাকবেন, যা দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে গঠিত হবে। ভবিষ্যতে কোনো সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন হবে।
এছাড়াও ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে যে ঐকমত্য হয়েছে—যেমন সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা—এগুলো বাস্তবায়নে আগামী সরকার বাধ্য থাকবে। অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।
অধ্যাদেশে আরও নির্ধারিত হয়েছে—
-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রগুলোতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
-
একই নির্বাচনী কর্মকর্তারাই গণভোট পরিচালনা করবেন।
-
নির্বাচনকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হলে ভোট স্থগিত ও পুনরায় ভোটের বিধান রয়েছে।
-
গোপন ব্যালটে গণভোট গ্রহণ হবে এবং সংসদ নির্বাচনের ব্যালট থেকে ভিন্ন রঙের ব্যালট ব্যবহার করা হবে।
-
প্রয়োজন হলে সংসদ নির্বাচনের ব্যালটবক্সও গণভোটে ব্যবহার করা যাবে।
সরকারের জারি করা এই অধ্যাদেশ কার্যকর হয়েছে অবিলম্বে।
এমবি এইচআর

