চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী জনসংযোগে গুলি; নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন বাবলা
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী জনসংযোগে সন্ত্রাসীদের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এরশাদ উল্লাহসহ চারজন। নিহত মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন বাবলা এলাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (গতকাল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী পূর্ব মসজিদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরেই গুলি চলে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন বাবলা, তবে গুলিতে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহও আহত হন।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা ইরফানুল হক শান্ত, আর আমিনুল ও মর্তুজা হকও। গুলির ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় প্রচারণাকালে হঠাৎ এক যুবক ভিড়ের মধ্যে ঢুকে সরওয়ার বাবলার ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, “গুলিবিদ্ধ সরওয়ার হোসেন বাবলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। দোষীদের শনাক্তে একাধিক টিম কাজ করছে।”
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, এ হামলার পেছনে জামায়াতে ইসলামী জড়িত। তবে জামায়াত তা অস্বীকার করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
সরকারের নিন্দা ও তদন্ত নির্দেশ
সহিংস ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিরাপত্তা বাহিনীকে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এরশাদ উল্লাহ মূল টার্গেট ছিলেন না; বিক্ষিপ্তভাবে ছোড়া একটি গুলি তাঁর শরীরে লাগে।
সরকার জানিয়েছে, “নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থী ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বিএনপির দাবি: ‘নির্বাচন বাধাগ্রস্তের ষড়যন্ত্র’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বলেন, “এই হামলা পরিকল্পিত। এর মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে।”
তিনি দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেন, “প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হতে পারে।”
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ফেসবুকে বলেন, “এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনায় কেউ যেন ফাউল গেম খেলতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, “সরওয়ার বাবলা একজন পরিচিত সন্ত্রাসী। প্রতিপক্ষ দুর্বৃত্তরা তাকেই লক্ষ্য করে গুলি চালায়।”
সিএমপি’র বক্তব্য
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, “প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, এরশাদ উল্লাহ টার্গেট ছিলেন না। টার্গেট ছিলেন সরওয়ার বাবলা, যিনি মারা গেছেন।”
তিনি জানান, “বাবলার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল এবং যাঁরা এই হামলা করেছে, তারা তাঁর প্রতিপক্ষ।”
এমবি/এসআর

