জাপানি এই ১০ অভ্যাস আপনার জীবনকে করবে আরও সুন্দর

ধীরে খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা বা চা পানের মতো ছোট ছোট রীতি জীবনকে করে তোলে গভীর ও সার্থক। এখানে এমন ১০টি জাপানি অভ্যাস তুলে ধরা হয়েছে, যা আমাদের জীবনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও অর্থবহ করে তুলবে।

Jul 15, 2025 - 15:35
 0  2
জাপানি এই ১০ অভ্যাস আপনার জীবনকে করবে আরও সুন্দর

নিজস্ব প্রতিনিধি: ধীরে খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা বা চা পানের মতো ছোট ছোট রীতি জীবনকে করে তোলে গভীর ও সার্থক। এখানে এমন ১০টি জাপানি অভ্যাস তুলে ধরা হয়েছে, যা আমাদের জীবনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও অর্থবহ করে তুলবে।


১. ধীরে খাওয়ার অভ্যাস
জাপানি খাদ্যসংস্কৃতির একটি প্রচলিত ধারা ‘হারা হাঁচি বু’। মানে ৮০ শতাংশ পেট ভরলেই খাওয়া থামিয়ে দেওয়া। শুরুতে আপনার মনে হতে পারে, এতে সম্পূর্ণ তৃপ্তি পাচ্ছেন না। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এটি হজমের জন্য দারুণ সহায়ক। অতিরিক্ত খাওয়াও রোধ করে। দীর্ঘ মেয়াদে এ অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।


২. সকালের স্ট্রেচিং
জাপানে প্রতিদিন সকালে পার্ক বা অফিসে অনেককে একসঙ্গে হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করতে দেখা যায়। এই ব্যায়ামকে বলা হয় ‘রাজিও তাইসো’। ‘রাজিও’ মানে রেডিও আর ‘তাইসো’ মানে ব্যায়াম। অর্থাৎ স্ট্রেচিংটি রেডিওতে সকালে সম্প্রচার করা হয়। এটি খুবই অল্প সময়ের জন্য করা হয়। সহজ ও সংক্ষিপ্ত এই স্ট্রেচিং শরীর ও মনকে সকালের শুরুতেই সচল ও সজাগ করে তোলে। এটি শুধু শারীরিক ফিটনেসের জন্যই সহায়ক নয়, বরং শৃঙ্খলা ও সকালের উদ্যম বাড়াতেও কার্যকর।


৩. জীবনযাপনে মিনিমালিজম
জাপানি ঘরগুলো সাধারণত আয়তনে ছোট হলেও সেখানে থাকে পরিপাটি, শান্তিপূর্ণ ও খোলামেলা পরিবেশ। এর পেছনে আছে ‘দান শারি’। দান শারি একধরনের মিনিমালিস্ট জীবনদর্শন, যেখানে কেবল প্রয়োজনীয় ও অর্থবহ জিনিসপত্র রেখে অপ্রয়োজনীয় সবকিছু ছেঁটে ফেলা হয়। বসবাসের জিনিসপত্র, বিশেষ করে ওয়ার্ডরোব বা আলমারির প্রতিটি জিনিস ‘কনমারি মেথড’ অনুসরণ করে নির্দিষ্ট জায়গায় এমনভাবে সাজিয়ে রাখা হয়, যাতে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, কখনো অগোছালো না থাকে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিয়ে ঘর গুছিয়ে রাখলে দৈনন্দিন জীবন অনেক বেশি সহজ, স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে।


৪. গরম গোসলের রীতি
জাপানে গোসল শুধু শারীরিক পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, বরং এটি একপ্রকার মানসিক প্রশান্তির রীতি। ‘ওফুরো’ নামের একটি প্রথা মেনে গোসলের পর পরিষ্কার শরীরকে গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। দিনের পরিশ্রম ও মানসিক চাপ দূর করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। ধোঁয়া ওঠা এই গোসলের মুহূর্ত শরীরকে যেমন শিথিল করে, তেমনি মনে আনে গভীর মানসিক স্বস্তি ও প্রশান্তি।


৫. হাঁটার অভ্যাস
জাপানে গণপরিবহন অত্যন্ত আধুনিক ও সময়নিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই দৈনন্দিন চলাফেরায় হাঁটাকে প্রাধান্য দেন। নিয়মিত হাঁটা একধরনের সহজ, কার্যকর ও প্রাকৃতিক শরীরচর্চা। যত আপনি পদক্ষেপের সংখ্যা বাড়াবেন, তত দেখবেন মুড ভালো হওয়ার পাশাপাশি শরীরও সুস্থ ও সচল হয়ে উঠবে। হাঁটলে মানসিক প্রশান্তি, সতেজতা ও একাগ্রতা বাড়ে।


৬. প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা
জাপানে লোকজনকে দেখা যায় পার্ক পরিষ্কার রাখতে, কিংবা চেরি ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে। তাদের কাছে প্রকৃতি শুধু দৃশ্য নয়, বরং একটি সম্পর্ক। জাপানে পাতার খসখস শব্দ কিংবা পাখির ডাকের মতো ছোট ছোট বিষয়ও গভীরভাবে উপভোগ করা হয়। এমন অভ্যাস আপনার মধ্যে পরিবেশসচেতনতা জাগিয়ে তুলবে, পাশাপাশি এনে দেবে মানসিক প্রশান্তি।


৭. ধীরে চা পান
জাপানে চা পান মানে তাড়াহুড়ো করে গিলে ফেলা নয়। আস্তেধীরে প্রতিটি চুমুকের উপভোগ। জাপানি এই চা-সংস্কৃতির নাম ‘চানোয়ু’। এটি ধৈর্য ও মনোযোগ ধরে রাখার কৌশল। এ পদ্ধতি মেনে চললে মানসিক প্রশান্তি আসে এবং বর্তমান মুহূর্তের সঙ্গে তৈরি হয় গভীর সংযোগ। আর গ্রিন টির স্বাস্থ্যগুণ তো বাড়তি পাওনা।


৮. পরিচ্ছন্নতাও একটি ধ্যান
জাপানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু হাইজিনের অংশ নয়, বরং এটি একপ্রকার আত্মানুশীলন ও সম্মানের প্রতীক। স্কুল, বাসাবাড়ি, এমনকি রাস্তাঘাটও সবাই মিলে পরিষ্কার করে—এ যেন এক সম্মিলিত শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের চর্চা। এ অভ্যাস ব্যক্তি ও সমাজকে যেমন শৃঙ্খলিত করে, তেমনি আনে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মতৃপ্তি।


৯. ঘুমকে গুরুত্ব দেওয়া
জাপানে ঘুমকে অলসতা হিসেবে নয়, বরং আত্মযত্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দিনের বেলায় একটু ঘুমিয়ে নেওয়া বা ‘ইনেমুরি’ও সামাজিকভাবে স্বীকৃত। সঠিক একটা ঘুমের রুটিন শরীর-মনকে পুনর্জীবিত করে, পরের দিনটা শক্তি ও নির্ভুলভাবে শুরু করতে সাহায্য করে।


১০. কৃতজ্ঞতার চর্চা
‘আরিগাতো’ বা ‘ধন্যবাদ’ বলা জাপানি সংস্কৃতিতে শুধু সামাজিক ভদ্রতা নয়, বরং জীবনের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাবোধ। এই ‘আরিগাতো’ শব্দটি খাবার, মানুষ এবং প্রতিটি ছোট ছোট মুহূর্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। এ অভ্যাস দিনকে করে তোলে আরও ইতিবাচক ও হৃদয়গ্রাহী।


এমবি/টিআই