বিএনপির ফাঁকা রাখা ৬৩টি আসনে প্রার্থী হচ্ছেন কারা?

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। তবে এখনো ৬৩টি আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি দলটি। এসব আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা–কল্পনা।

Nov 5, 2025 - 12:14
 0  10
বিএনপির ফাঁকা রাখা ৬৩টি আসনে প্রার্থী হচ্ছেন কারা?
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। তবে এখনো ৬৩টি আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি দলটি। এসব আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা–কল্পনা। কোথাও মিত্র দলের প্রার্থীকে জায়গা দিতে, আবার কোথাও অভ্যন্তরীণ সমঝোতার জন্যই আসনগুলো ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যেসব আসনে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলো আগ্রহ দেখিয়েছে, সেখানে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। ওই আসনগুলোতে শরীক দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তবে এখনো নিশ্চিত নয়, ফাঁকা রাখা সব আসনই জোটের জন্য বরাদ্দ থাকবে কি না।

জোটের প্রার্থী মাঠে নেমে পড়েছেন
ঢাকা-১৩ আসনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ইতিমধ্যে বিএনপির সবুজ সংকেত পেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। একইভাবে গুলশান-বনানী এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থও ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বিএনপির জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপি সভাপতি অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বিএনপির সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনায় আছেন।

এছাড়া লক্ষ্মীপুর-১ আসনে এলডিপি চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেন সেলিম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং ঝালকাঠি-১ আসনে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও বিএনপির সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

গণঅধিকার পরিষদ ও অন্যদের সম্ভাবনা
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ দুই আসনেই বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো গণঅধিকার পরিষদের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে।

ঢাকা-৭ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নাম আলোচনায় আছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ধর্মভিত্তিক আটদলীয় জোটের অংশ এই দলটি বিএনপির ফাঁকা রাখা আসনে অংশ নিতে পারে বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অবস্থান
গণসংহতি আন্দোলন ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বেশ কিছু দল নিয়ে গঠিত গণতন্ত্র মঞ্চও বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে চায়। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, যদিও ওই আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে মির্জা আব্বাসকে।

এনসিপি ও বিএনপির সমঝোতা অনিশ্চিত
ছাত্র আন্দোলন থেকে আসা দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করতে চায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), আখতার হোসেন (রংপুর-৪) ও সারজিস আলম (পঞ্চগড়-১) সহ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন, কিন্তু এসব আসনে বিএনপি ইতোমধ্যে প্রার্থী দিয়েছে। ফলে এনসিপি শেষ পর্যন্ত কার সঙ্গে যাবে তা অনিশ্চিত।

আসন বণ্টন এখনো কৌশলগত সিদ্ধান্তে
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, কিছু ফাঁকা আসনে স্থানীয় কোন্দল ও নির্বাচনী কৌশলগত কারণেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে দলটি।

এমবি এইচআর