২০ বছরের মধ্যে এবারই এইচএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হার, বিশ্লেষকদের মতভেদ
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার মাত্র ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০০৪ সালের পর এটাই সর্বনিম্ন পাসের হার। ওই বছর পাস করেছিলেন ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার মাত্র ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০০৪ সালের পর এটাই সর্বনিম্ন পাসের হার। ওই বছর পাস করেছিলেন ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এবার ফেল করেছেন ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৭৬ হাজার ৮১৪ জন কম। এছাড়া ২০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেননি—অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৫টি। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানও কমে গেছে এক হাজার ৪৩টিতে।
২০ বছরে পেছনে এইচএসসি
২০০৩ সালে জিপিএ পদ্ধতি চালুর পর প্রথম বছরেই পাসের হার নেমে গিয়েছিল ৩৮ দশমিক ৪৩ শতাংশে। ২০০৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশে। এরপর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাসের হার ক্রমান্বয়ে বেড়েছে।
২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিতে সব পরীক্ষার্থীকে অটোপাস দেওয়া হয়, ফলে পাসের হার ছিল ১০০ শতাংশ। তবে এরপর সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও সীমিত বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ায় ফল তুলনামূলক ভালো ছিল।
২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তবে এ বছর পূর্ণ সিলেবাস, পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ের পরীক্ষায় ফলাফলে ধস নামে।
কোটা আন্দোলনের প্রভাব
চলতি বছরের পরীক্ষার মাঝপথে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত হয়। সরকার পরিবর্তনের পর অবশিষ্ট পরীক্ষা বাতিল করে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হয়।
‘স্বাভাবিক ধারায় ফেরায় ফলাফল নিম্নমুখী’
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন,
“এবার আমরা পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ সময়ের পরীক্ষায় ফিরেছি। শিক্ষার্থীরা হয়তো এই পরিবর্তনে মানিয়ে নিতে পারেনি। আগের মতো অতিরিক্ত গ্রেস মার্ক দেওয়া হয়নি, তাই ফলাফলে এই পার্থক্য।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার মান বিগত বছরগুলোতে তলানিতে নেমেছিল। এখন বাস্তব চিত্র ফুটে উঠছে, এটা শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য জরুরি।”
‘শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানানো হয়েছে’
তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রধান নির্বাহী রাশেদা কে চৌধুরী।
তিনি বলেন, “স্বাভাবিক পরীক্ষায় ফেরার আগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি স্বাভাবিক করতে হবে। শুধু প্রশ্নপত্র বা সিলেবাস নয়, পাঠদানের ধরণেও সেই স্বাভাবিকতা আনতে না পারলে এ ফল আসবেই।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান আরও কড়া মন্তব্য করেন,
“এত শিক্ষার্থী ফেল করেছে—এটা ভয়াবহ। পরীক্ষার ধরণ পাল্টেছে বলে ব্যর্থতার দায় এড়ানো যায় না। শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানিয়ে ফেল করানো কোনো উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার নিদর্শন নয়।”
এমবি এইচআর

