শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালীন কর্মবিরতিতে, প্রাথমিক শিক্ষায় অচলাবস্থা
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনের কারণে দেশজুড়ে প্রাথমিক শিক্ষায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা, ফলে ৬৫,৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি শিশু শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ রয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসেও বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, গত শনিবার শহিদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশের অতর্কিত হামলায় শত শত শিক্ষক আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম করার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ এবং অর্থ বিভাগে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। তবে শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে: চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করা এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি প্রদান।
শহিদ মিনারে শিক্ষকরা কাফনের কাপড় হাতে শপথ নেন, দাবি আদায় না হলে তারা ক্লাসে ফিরবেন না। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, “আমরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচিতে অনড়। তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শহিদ মিনারে অবস্থান চালিয়ে যাব।”
অন্যদিকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের শিক্ষকরা সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি চালানো হবে।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ পিটিআই কর্মকর্তা সমিতি এবং বাংলাদেশ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অ্যাসোসিয়েশন পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষকদের দাবি পূরণের যৌক্তিক সমাধান এবং হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
এমবি/এসআর

