সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা পদ পুনর্বহালের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সংগীত’ ও ‘শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

Nov 6, 2025 - 14:03
 0  2
সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা পদ পুনর্বহালের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সংগীত’ ও ‘শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও নৃত্যকলা বিভাগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক, বিভিন্ন হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক এবং সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ানও সংহতি জানান।

সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা উপন্যাস বলেন, সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিশুদের মানুষ করে তোলে। পৃথিবীর সব দেশেই সংগীত শেখানো হয়, কারণ সংগীত মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে রাখে। তাহলে আজ কেন আমাদের এখানে দাঁড়াতে হবে—এটা শুধু সংগীত বিভাগের জন্য নয়, দেশের জন্যও লজ্জাজনক।

থিয়েটার ও পারফরম্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ইসরাফিল শাহীন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। তাই সরকারের উচিত এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা। ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র চলে না, সেখানে সংগীতও প্রয়োজন।

ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা বলেন, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর চাপের কারণে সংগীত চর্চা বাতিল করা হয়েছে।

সংগীত বিভাগের শিক্ষক আজিজুর রহমান তুহিন বলেন, সভ্যতা টিকে আছে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ওপর ভর করে। সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বাদ দিলে আগামীর প্রজন্মের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।

গত ২৮ আগস্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের দুটি পদ সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর আপত্তির মুখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় রবিবার পদ দুটি বাতিল করে।

পরে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানায়, সীমিত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর সুফল দেবে না এবং এতে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান হলে ভবিষ্যতে বিষয় দুটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।

এমবি এইচআর