জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অভিযান, ২১ বোতল মদ উদ্ধার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে ২১ বোতল মদ জব্দ করেছে হল প্রশাসন। রোববার রাতে হলের ৭২৩ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে ২১ বোতল মদ জব্দ করেছে হল প্রশাসন। রোববার রাতে হলের ৭২৩ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কক্ষে মাদকদ্রব্য মজুত থাকার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হল প্রশাসনের পাশাপাশি হল সংসদের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশির সময় প্রথমে টেবিলের লকার এবং পরে বিছানার নিচ থেকে মোট ২১ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ফজলে আজওয়াদ নামের এক শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের (তৃতীয় বর্ষ) শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে অবস্থান করছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জামালপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করেছেন বলে স্বীকার করেন।
হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেহেতু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক নন, তাই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ফজলে আজওয়াদ গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন।
তবে এ ঘটনায় তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে বিবৃতি দিয়েছে শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটি জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের কোনো কর্মী বা পদধারী নন। জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল হল পর্যায়ে উন্মুক্ত প্যানেল গঠন করেছিল, যেখানে অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
শাখা ছাত্রদল মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
এমবি এইচআর

