জ্বর সারার পর যেভাবে ক্ষুধামান্দ্য দূর করবেন
জ্বরের পর ক্ষুধামান্দ্য বা অরুচি সহজে যেতে চায় না। এটি খুব সাধারণ একটি সমস্যা। যখন জ্বর আসে, শারীরিক কিছু পরিবর্তন হয়, যা ক্ষুধাকে কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু অসুস্থ হলে পুষ্টিকর খাবার খেতে বলা হয়। তাহলে কী করবেন?জ্বরে ক্ষুধামান্দ্যর কারণ জ্বর হচ্ছে শরীরে সংক্রমণ বা প্রদাহের একটি শারীরিক প্রতিক্রিয়া। প্রদাহ চলাকালে শরীর থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ হয়।

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বরের পর ক্ষুধামান্দ্য বা অরুচি সহজে যেতে চায় না। এটি খুব সাধারণ একটি সমস্যা। যখন জ্বর আসে, শারীরিক কিছু পরিবর্তন হয়, যা ক্ষুধাকে কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু অসুস্থ হলে পুষ্টিকর খাবার খেতে বলা হয়। তাহলে কী করবেন?জ্বরে ক্ষুধামান্দ্যর কারণ জ্বর হচ্ছে শরীরে সংক্রমণ বা প্রদাহের একটি শারীরিক প্রতিক্রিয়া। প্রদাহ চলাকালে শরীর থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ হয়। মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাস নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আছে, যা আমাদের ক্ষুধাকে নিয়ন্ত্রণ করে। জ্বরের সময়ে প্রদাহের কারণে এসব রাসায়নিক পদার্থ হাইপোথ্যালামাসকে প্রভাবিত করে ক্ষুধামান্দ্য আনে। এমনকি জ্বর চলে যাওয়ার পরও এসব রাসায়নিক পদার্থের প্রভাব শরীরে কিছুদিন থাকে। এ কারণে জ্বরের পরেও অনেক রোগীর ক্ষুধামান্দ্য থাকে।
আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, জ্বরের সময় অন্ত্রনালির গতি কমে যায়। এ কারণেও ক্ষুধামান্দ্য হতে পারে। কিছু জ্বরে জিবের স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যায় বা জিবের গঠনগত পরিবর্তন হয়। সে ক্ষেত্রে খাবারের যথার্থ স্বাদ পাওয়া যায় না। আমাদের খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাদ ও গন্ধ দুটিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভাইরাল জ্বরে এ ঘটনা ঘটে বেশি।
কিছু জ্বরে মুখে ঘা হয় বা জিবে প্রলেপ পড়ে। এগুলোর কারণে খেতে গেলে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হয়, রোগীরা তখন আর খেতে পারেন না।জ্বরের সময় বিভিন্ন রকমের ওষুধ খেতে হয়। অনেক জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হয়। কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্ষুধামান্দ্য হয়।করণীয়
জ্বর–সম্পর্কিত ক্ষুধামান্দ্য অনেক দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। পুষ্টিগত কিছু পরিবর্তন, জীবনযাত্রার মানে কিছু পরিবর্তন ও কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের মাধ্যমে এটিকে সমাধান করা সম্ভব।
১. পর্যাপ্ত পানীয় পান
পানি ও পানিজাতীয় খাবার খাওয়া এ রকম সময়ে খুবই জরুরি। ডাবের পানি, স্যুপ ও স্যুপ–জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। ফলের রস কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের পানীয় পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করে। পানিশূন্যতা ক্ষুধামান্দ্য তৈরি করে। অনেক সময় লবণের ঘাটতিতে ক্ষুধামান্দ্য হয়। এ ধরনের পানীয় লবণের ঘাটতি পূরণেও সহায়ক।
২. অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া
হালকা ও পরিপাক–সহায়ক খাবার খেতে হবে। অল্প অল্প করে বারবার খেলে খাওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে হঠাৎ বেশি খেলে পেট ভার হয়ে থাকে, তখন আর খাওয়ার প্রতি আগ্রহ থাকে না। দু–তিন ঘণ্টা পরপর বিভিন্ন স্বাদের হালকা ও পরিপাকযোগ্য খাবার খাওয়া যেতে পারে। খাবারের মধ্যে খিচুড়ি, ছাতু, নরম ভাত খাওয়া যেতে পারে। নরম ফল ও জুস খাওয়া যায়।
৩. স্বাদবৃদ্ধিকারক খাবার
লেবু স্বাদ বৃদ্ধিকারক খাদ্য। লেবু জিবের স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। আদা, পুদিনা, ধনেও অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, বেশি ব্যবহার করলে পাকস্থলীতে অস্বস্তি হতে পারে, যা ক্ষুধামান্দ্য বাড়িয়ে দেয়।
৪. ভারী ও তৈলাক্ত খাবার পরিহারভারী ও তৈলাক্ত খাবার পেটে ভার ভার ভাব সৃষ্টি করে। এ ধরনের খাবার অল্প খেলেই পেট ভরে যায়। এ সময় বরং বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। ভাজাপোড়া খাবারও পরিহার করা উচিত। ঝাল খাবার হজমের জন্য সহায়ক নয়, পেটে অস্বস্তি করে।
৫. সামান্য গরম খাবার খান
হালকা গরম খাবার এ রকম সময়ে হজম ও পরিপাকের জন্য সহায়ক। এ ছাড়া গরম খাবার খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
৬. হালকা ব্যায়াম
দুর্বল শরীরের জন্য উপযোগী কিছু হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। সারা দিন শুয়েবসে থাকলে খাবার সহজে হজম হয় না। হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাচলা করলে পেটে ক্ষুধা সৃষ্টি হয়।
৭. ওষুধ
অনেক সময় ক্ষুধামান্দ্য বেশি হলে ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও ক্ষুধাবর্ধক ওষুধ, ভিটামিন খাওয়া যেতে পারে।
৮. অন্য কোনো কারণ থাকলে তার সমাধান
মুখের ঘা বা জিবের প্রলেপ পড়ার কারণে ক্ষুধামান্দ্য হলে সেটির চিকিৎসা নিতে হবে।
এমবি/টিআই