সুন্দরবনের কেওড়া ফল দিয়ে তৈরি হচ্ছে আচার-চাটনি, স্বাবলম্বী হচ্ছেন উপকূলের নারীরা

সুন্দরবনের কেওড়া গাছের ফল দিয়েই এখন তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু চাটনি, জেলি ও আচার। পুষ্টিগুণ ও ঔষধি গুণে ভরপুর এই কেওড়া ফলের আচার ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

Oct 18, 2025 - 18:59
 0  2
সুন্দরবনের কেওড়া ফল দিয়ে তৈরি হচ্ছে আচার-চাটনি, স্বাবলম্বী হচ্ছেন উপকূলের নারীরা
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
সুন্দরবনের কেওড়া গাছের ফল দিয়েই এখন তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু চাটনি, জেলি ও আচার। পুষ্টিগুণ ও ঔষধি গুণে ভরপুর এই কেওড়া ফলের আচার ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নিলডুমুর উপকূলের নারী উদ্যোক্তা শেফালি বিবি কেওড়া ফল দিয়ে নানা স্বাদের আচার ও চাটনি তৈরি করে এখন হয়েছেন স্বাবলম্বী। তিনি বলেন, “সুন্দরবন থেকে কেওড়া ফল সংগ্রহ করে চাটনি ও আচার বানাই। প্রতিকেজি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়। চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে উপকূলীয় নদীর তীরে প্রাকৃতিকভাবে কেওড়া বাগান বেড়ে উঠেছে। বাজারে কেওড়ার চাহিদা থাকায় স্থানীয়রা ফল সংগ্রহ করে বাজারজাত করছেন। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কেওড়া ফলের টক-ঝাল স্বাদের কারণে এটি দিয়ে তৈরি ‘কেওড়ার টক ডাল’ এবং আচার স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয়। পুষ্টিবিদদের মতে, কেওড়া ফলে প্রচুর ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ঔষধি উপাদান রয়েছে, যা হজমশক্তি বাড়ায়, রক্তে কোলেস্টেরল কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. কাজী আরিফ আহমেদ বলেন, “কেওড়া ফল ভিটামিন সি’র ঘাটতি পূরণ করে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি প্রাকৃতিকভাবে হজমে সহায়তা করে।”

প্রতি বছর চৈত্র-বৈশাখে ফল ধরতে শুরু করে কেওড়া গাছে, আর আষাঢ় থেকে আশ্বিন পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। কেওড়া ফল কিছুটা আমলকির মতো দেখতে হলেও এর স্বাদ ও গন্ধ আলাদা।

বর্তমানে শ্যামনগর উপকূলে তৈরি কেওড়ার আচার ও চাটনি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয়দের আশা—সরকারি সহায়তা ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ পেলে এই পণ্য একদিন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।

এমবি এইচআর