আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি চান না ৮৯ শতাংশ

Aug 21, 2025 - 13:38
 0  2
আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি চান না ৮৯ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি চান না অধিকাংশ মানুষ। সম্প্রতি পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন।

গত ১১ আগস্ট ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ-এ জরিপ চালানো হয়। যদিও জরিপে
আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি থাকা বা না-থাকা বিষয়ে ছাত্রত্ব থাকা শিক্ষার্থীদের মতামত জানানোর অনুরোধ করা হয়েছিল; তবুও শিক্ষার্থী নন এমন অনেকেই তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।

জরিপে অংশ নেওয়াদের অভিযোগ, আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতির কারণে প্রাধান্য বিস্তার, আসন বণ্টন, সিট দখল, মারামারি ও নানা অনিয়ম ঘটে থাকে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হন এবং স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, নিরাপদ আবাসন, পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা জরুরি।

অন্যদিকে, জরিপে অংশ নেওয়া অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী মনে করেন, ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছাত্ররাজনীতি হলে তা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে হলে সহিংসতা ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

পরিচালিত জরিপে অংশ নিয়েছেন মোট ৮ হাজার ২৪১ জন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৩৭৯ জন (৮৯ শতাংশ) মত দিয়েছেন যে, তারা আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি চান না। অন্যদিকে মাত্র ৮৬২ জন (১১ শতাংশ) শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি সমর্থন করেন।

জরিপে অংশ নিয়ে আব্দুর রহমান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বাবা মায়ের কষ্টার্জিত টাকা খরচ করে রাজনীতিবীদদের ডলার কামানোর হাতিয়ার হতে চায় না! মরলেও আমরা, ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছি নিরপেক্ষ চিন্তাভাবনা নিয়ে গভীর গবেষণার জন্য! আর রাজনৈতিক প্যাঁচাল চাই না...টোটালি ক্যাম্পাস ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক। ক্যাম্পাস হোক গবেষণা ও সুশিক্ষার জায়গা।’

মো. রনি আকন্দ নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি থাকা উচিত, তবে তা যেন ইতিবাচক ও শিক্ষার্থীবান্ধব হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলে তাদের পথনির্দেশনা দেওয়া, সমস্যা শুনে সমাধান করা এবং সার্বিক সহযোগিতা করার মতো ভূমিকা ছাত্ররাজনীতির নেতাকর্মীদের পালন করা উচিত। ছাত্ররাজনীতি পুরোপুরি বন্ধ হলে শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হওয়ার সুযোগ হারাবে। ফলে দেশের বৃহত্তর স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ছাত্ররাজনীতি না থাকলে রাষ্ট্র যেকোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে বিকিয়ে দিতে দ্বিধা করবে না।’

এমবি/এসআর