‘বাকসু’ নাম নিয়ে বিতর্কে দক্ষিণাঞ্চলের দুই ঐতিহ্যবাহী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়
মেঘনাবার্তা প্রতিবেদক:
বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ছাত্র সংসদ দীর্ঘদিন ধরে ‘বাকসু’ নামে পরিচিত। ১৯৫২-৫৩ সেশনে প্রথম গঠিত এই সংসদের নাম দক্ষিণাঞ্চলে বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ছাত্র সংসদের জন্য একই নাম প্রস্তাব করায় কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএম কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যেন তাদের ছাত্র সংসদের জন্য ‘বাকসু’ নামটি ব্যবহার না করে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর ফকির বলেন, “ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদ দক্ষিণাঞ্চলের গণআন্দোলনের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বরিশাল বিভাগ ঘোষণা, পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মতো আন্দোলনের সূত্রপাতও এই সংসদের মাধ্যমে হয়েছে। ‘বাকসু’ নামটি শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি রাজনৈতিক পরিচিতি ও সাংগঠনিক ধারার প্রতীক। এখন বিশ্ববিদ্যালয় একই নাম ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে।”
তিনি উদাহরণ দেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদকে জাকসু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েরকে জকসু বলা হয়— যাতে নাম নিয়ে বিভ্রান্তি না হয়। ব্রজমোহন কলেজের বাকসু নামের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা প্রয়োজন।”
আইনি দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নাম সমাজে স্বীকৃতি পেলে তা প্রথাগত অধিকারের আওতাভুক্ত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন ‘বাকসু’ নামটি শুধুমাত্র ব্রজমোহন কলেজের জন্য সংরক্ষিত রাখে। হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দাবি মানা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হক জিসান, সাবেক ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিল্টন, সাবেক ম্যাগাজিন সম্পাদক নাজমুল হাসান ছবির এবং বর্তমান শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও সাব্বির হোসেন সোহাগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএম কলেজে আগে ‘বাকসু’ নাম ব্যবহৃত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র সংসদে নাম ব্যবহার করলে তা পাবলিক ও জাতীয় স্বীকৃতিসহ মর্যাদা পাবে। চট্টগ্রামের উদাহরণ অনুযায়ী, কলেজ পর্যায়ের সংগঠন কোনো স্বীকৃতি পায়নি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নামই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত। তাই লজিক্যালি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ই ‘বাকসু’ নামের যৌক্তিক দাবীদার।
“বাকসু” কেবল সংক্ষিপ্ত রূপ নয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্যের ধারাবাহিক প্রতীক হবে। এখন কলেজের শিক্ষার্থীরা যদি নামটি ব্যবহার করে, সবাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ বোঝবে—তবে এটি আলাদা বিষয়।
এমবি/এসআর

