জঙ্গি সন্দেহে আটক, পাঁচ বছর পর জামিনে মুক্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী—নুর মোহাম্মদ অনিক ও মোজাহিদুল ইসলাম—জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়ার সাড়ে পাঁচ বছর পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা কারাগার থেকে তাঁরা মুক্তি পান।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী—নুর মোহাম্মদ অনিক ও মোজাহিদুল ইসলাম—জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়ার সাড়ে পাঁচ বছর পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা কারাগার থেকে তাঁরা মুক্তি পান।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের তুলে নিয়ে যান। এরপর টানা ১৭ দিন অজ্ঞাত স্থানে রেখে তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেছেন সহপাঠীরা। পরে ২৫ জানুয়ারি পুলিশ জানায়, বিস্ফোরক দ্রব্যসহ তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একই দিন তাঁদের বিরুদ্ধে খুলনার কৃষক লীগ কার্যালয় ও আড়ংঘাটা থানার গাড়ির গ্যারেজে বোমা হামলার অভিযোগে মামলা হয়। এরপর আরও চারটি মামলা করা হয়।
অনিক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ডিসিপ্লিনের এবং মোজাহিদুল পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর, গত সপ্তাহে উচ্চ আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশ কারাগারে পৌঁছাতে কিছু সময় লাগায় সোমবার সন্ধ্যায় তাঁরা মুক্তি পান।
মুক্তির পর কারাগারের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
তাঁদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকতার জাহান জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা ছিল। এর মধ্যে দুটি মামলায় খালাস পেয়েছেন, দুটি মামলায় জামিন হয়েছে এবং বাকি দুটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ওই দণ্ডপ্রাপ্ত মামলাগুলোর জামিন চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ড. নাজমুস সাদাত প্রথম আলোকে বলেন, “আমরা তদন্তে জানতে পেরেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় তাঁদের গুম করা হয়েছিল। তখনকার প্রশাসনের কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যেহেতু তাঁরা কারাগারে ছিলেন, আবেদন করলে তাঁদের ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে। তাঁরা এখন নিবন্ধিত না হলেও, তাঁদের সাবেক শিক্ষার্থী বলা ঠিক হবে না। কারণ, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তাঁরা ডিগ্রি শেষ করতে পারেননি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রেজাউল করিম বলেন, “জঙ্গি নাটকে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিচার হওয়া উচিত। এই দুই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন পর মুক্তি পেয়েছেন, এটা তাঁদের নতুন জীবনের শুরু। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের পাশে থাকবে।
এমবি/এসআর