নোয়াখালীতে এখনো পানিবন্দী দেড় লাখ মানুষ

দুই দিন ধরে বৃষ্টি নেই। এরপরও পানি জমে আছে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর অনেক সড়কে। জেলা জজ আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সামনের সড়কে জমে আছে পানি। বাসাবাড়ির সামনে জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন শহরের অনেক বাসিন্দা।

Jul 13, 2025 - 12:59
Jul 24, 2025 - 12:47
 0  3
নোয়াখালীতে এখনো পানিবন্দী দেড় লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দুই দিন ধরে বৃষ্টি নেই। এরপরও পানি জমে আছে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর অনেক সড়কে। জেলা জজ আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সামনের সড়কে জমে আছে পানি। বাসাবাড়ির সামনে জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন শহরের অনেক বাসিন্দা।


টানা বৃষ্টিতে জেলা শহর মাইজদীর মতো পানিবন্দী হয়ে পড়েন নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার অনেক বাসিন্দা। এখনো দেড় লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।


জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দী। এ পর্যন্ত বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৭টি ঘর। এর মধ্যে কবিরহাটে ২৫টি, সুবর্ণচরে ২১টি ও সেনবাগ উপজেলায় ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ৭৯৪ জন বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে ৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৬ জন রয়েছেন।


জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. আজরুল ইসলাম আজ রোববার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত জেলা শহর মাইজদীতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী নোয়াখালীতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই।
আজ সকালে জেলা শহর মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর, কলেজপাড়া, জেলা পুলিশ ‍সুপারের কার্যালয়, জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণ, নোয়াখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্র এলাকা, হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের কলোনি, নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজসংলগ্ন দরগাবাড়ি ও কাজি কলোনি এলাকা ঘুরে দেখা হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, এসব এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে।


জেলা জজ আদালত আঙিনায় পানি জমে থাকায় বিচারপ্রার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানান বেগমগঞ্জ থেকে আসা আবদুল জলিল। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার তিনি আদালতে এসেছেন। দুবারই পানি মাড়িয়ে আদালতের বারান্দায় উঠতে হয়েছে।


পানিনিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় দরগাবাড়ি ও হরিজন সম্প্রদায়ের কলোনির বাসিন্দাদেরও জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে দেখা যায়। দরগাবাড়ির বাসিন্দা তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের বাড়িতে অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে। লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার অনেক পুরোনো বাড়ি এটি। এই বাড়ির আশপাশে অনেক বাড়িঘর উঠে গেছে। পানিনিষ্কাশনের পথগুলো বেশির ভাগ বেদখল হয়ে গেছে। ফলে একটু বেশি বৃষ্টি হলেই বাড়ির চলাচলের রাস্তাসহ আঙিনা পানিতে ডুবে যায়।


এদিকে জেলার কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ও ধান শালিক ইউনিয়নের অনেক এলাকা এখনো ডুবে রয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট, বসতবাড়ির আঙিনা ডুবে থাকায় মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।


এমবি/টিআই