টানা বৃষ্টিতে দেবে গেছে চট্টগ্রামের ব্যস্ততম সড়ক
চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম সড়ক দুই নম্বর গেট থেকে অক্সিজেনমুখী পথে অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের একটি অংশ দেবে গেছে। এতে করে সড়কের এক পাশের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং অন্য পাশে চলছে সীমিত পরিসরে ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল। ফলে ওই এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম সড়ক দুই নম্বর গেট থেকে অক্সিজেনমুখী পথে অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের একটি অংশ দেবে গেছে। এতে করে সড়কের এক পাশের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং অন্য পাশে চলছে সীমিত পরিসরে ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল। ফলে ওই এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামশুল আলম। তিনি জানান, 'দিবাগত রাতের কোনো এক সময় স্টারশিপ ব্রিজ এলাকার সড়ক দেবে যায়। দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।'
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের দেবে যাওয়া অংশে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং লাল ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে বিপজ্জনক জায়গাটি। তবে তাতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ উদ্দিন বলেন, 'সড়কটি বহুদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন সেটাই বড় ধরনের বিপদের রূপ নিয়েছে।'
ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা শাহ নওয়াজ হাসান বলেন, 'গত বছরও ব্রিজের এক পাশ দেবে গিয়েছিল। ফেসবুকে ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সিটি করপোরেশন শুধু টিন দিয়ে ঘেরাও করে দেয়। গর্তে বালু-ইট ফেলে দায় সেরেছিল। আজ সেই ব্যর্থতার পরিণতি দেখছে নগরবাসী।'
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৯টা পর্যন্ত) চট্টগ্রামে ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নগরের আরও সড়ক ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যায়, যার মধ্যে বাদামতলী, আগ্রাবাদ, চকবাজার, বন্দর, কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট ও অক্সিজেন এলাকা অন্যতম। জলজটের কারণে কর্মস্থলগামী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় গণপরিবহন সংকট দেখা দেয়।
নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এ ধরনের বিপর্যয় নগর ব্যবস্থাপনায় নজরদারির অভাবকেই সামনে নিয়ে আসে বলে মন্তব্য করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ তত্ত্বাবধানে থাকা এসব এলাকায় সমন্বিত উদ্যোগের অভাব বারবারই নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলছে।
সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ, জলাবদ্ধতা, গণপরিবহন সংকট–সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের নাগরিক জীবনে অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম একটি বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও এর অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় যে ধরনের সতর্কতা ও পরিকল্পনা প্রয়োজন, তার ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান।
এমবি/এসআর