নির্জন পথে হরিণের মাংস নিয়ে ফিরছিলেন শিকারিরা, কোস্টগার্ড দেখে পালালেন
রাতের অন্ধকারে গহিন বন থেকে অবৈধভাবে শিকার করা হরিণের মাংস নিয়ে লোকালয়ে ফিরছিলেন একদল শিকারি।

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাতের অন্ধকারে গহিন বন থেকে অবৈধভাবে শিকার করা হরিণের মাংস নিয়ে লোকালয়ে ফিরছিলেন একদল শিকারি। বস্তাভর্তি হরিণের মাংস নিয়ে তাঁরা নির্জন গ্রামের সরু পথ পেরিয়ে নীরবে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। আকস্মিকভাবে সামনে চলে এলেন কোস্টগার্ডের সদস্যরা। তাঁদের দেখেই মাংসের বস্তা ফেলে পালিয়ে যান শিকারিরা। পরে বস্তাটি থেকে মোট ৩২ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার পাতাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার সকালে উদ্ধার হওয়া হরিণের মাংস কয়রার বন আদালতে নেওয়া হয়। দুপুরের দিকে কয়রা বন আদালত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আদালত ভবনের পেছনে গর্ত খুঁড়ছেন এক ব্যক্তি। পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কয়েকজন বনকর্মী। তাঁরা জানান, আদালতের নির্দেশে হরিণের মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে।
সুন্দরবন-সংলগ্ন কয়রার বাসিন্দারা জানান, লোকালয়ের পাশের একটি সরু নদী পেরোলেই শুরু হয় গভীর জঙ্গল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেশাদার হরিণশিকারিরা রাতের আঁধারে সুন্দরবনে ঢুকে হরিণের চলাচলের পথে দড়ির ফাঁদ পেতে রাখেন। ফাঁদে আটকে পড়া হরিণ পরে গোপনে জবাই করে মাংস লোকালয়ে এনে বিক্রি করেন। সবকিছুই ঘটে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে, নিঃশব্দে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, চোরা শিকারিরা সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকার করে পাতাখালী গ্রাম দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে কয়রা স্টেশন থেকে একটি দল পাঠানো হয়। অভিযানের সময় কোস্টগার্ডের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া বস্তায় পাওয়া যায় ৩২ কেজি হরিণের মাংস। তাৎক্ষণিকভাবে মাংসগুলো বন বিভাগের বজবজা টহল ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়।
সুন্দরবনের বজবজা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘উদ্ধার করা হরিণের মাংস আদালতের অনুমতিক্রমে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়েছে। কয়রার জোড়শিং, আংটিহারা, পাতাখালী, গোলখালী এসব এলাকায় হরিণ শিকারি চক্র সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। এসব অপরাধ দমনে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমবি/টিআই