নিঝুমদ্বীপে সৈকত থেকে বালু উত্তোলন, বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের সমুদ্র সৈকত থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের সমুদ্র সৈকত থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জাহাজমারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা নিঝুমদ্বীপ নামার বাজারের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরকারি সমুদ্র সৈকত এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে বালু উত্তোলন করেন। এ সময় ভূমি কর্মকর্তা বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ ও খুন-জখমের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে সরকারের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শাখাওয়াত হোসেনের বন্দোবস্ত জমি থেকে বালু সরানোর দায়িত্ব পান দলের কর্মী আব্দুর রহিম। তিনি আনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছিলেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে উত্তোলন বন্ধ করে সরঞ্জাম জব্দ করে।
এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমার বন্দোবস্ত জমিতে ধান চাষে সমস্যা হচ্ছিল, তাই বালু সরানোর কাজ দিয়েছিলাম। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, আসামিরা দাবি করেছেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাসেল বলেন, “আমি বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করেছি, অথচ আমার নামই মামলায় ঢোকানো হয়েছে। প্রতিবাদ করেই আসামি হতে হচ্ছে।”
মামলার বাদী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে মামলা করেছি। তদন্তে নিরপরাধদের নাম বাদ যাবে বলে আশা করি।”
এ বিষয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আনোয়ার হোসেন ও আব্দুর রহিম অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করেছেন, যা নিঝুমদ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি।”
ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, “মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৪–৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
নিঝুমদ্বীপের মতো সংবেদনশীল উপকূলীয় অঞ্চলে বালু উত্তোলন শুধু পরিবেশ নয়, স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিবেশবিদরা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এমবি এইচআর

