বরিশালের বিবির পুকুর ঘিরে লোহার গরাদ, উদ্বেগে স্থানীয়রা

বরিশালের কেন্দ্রস্থলে থাকা শতবর্ষী জলাশয় বিবির পুকুরের সৌন্দর্য ফেরাতে ফোয়ারা বসানোর কাজ চললেও

Oct 22, 2025 - 13:23
 0  2
বরিশালের বিবির পুকুর ঘিরে লোহার গরাদ, উদ্বেগে স্থানীয়রা

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বরিশালের কেন্দ্রস্থলে থাকা শতবর্ষী জলাশয় বিবির পুকুরের সৌন্দর্য ফেরাতে ফোয়ারা বসানোর কাজ চললেও, পুকুরের দক্ষিণ পাশে লোহার গরাদ বসানো হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। লোহার খাঁচা এবং পুরো এলাকা ঘিরে নেট বসানোর প্রস্তাবনা নিয়ে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে পুকুরের খোলা আকাশ ও মুক্ত সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে।

বিবির পুকুর কেবল একটি জলাশয় নয়; এটি শহরের ইতিহাসেরও ধারক। জানা যায়, খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরি ১৮০০ সালের দিকে বরিশালে এসে পর্তুগিজ দস্যুদের হাত থেকে এক মুসলিম নারীকে উদ্ধার করেন, যার নাম রাখা হয় জিন্নাত বিবি। ১৯০৮ সালে নিঃসন্তান এই নারী নিজের জমিতে পুকুর খনন করেন।

প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮৫০ ফুট প্রস্থের পুকুরটি একসময় কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে দুটি খাল দিয়ে সংযুক্ত ছিল। নদীর জোয়ারে পানি ভরে পুকুরে মাছ আসত। তবে এখন খালগুলো বিলুপ্ত এবং পুকুরটি বদ্ধ ও নিস্তরঙ্গ হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর আগে প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন পুকুরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পার্ক, বেঞ্চ, আলোকসজ্জা ও ফোয়ারা স্থাপনের উদ্যোগ নেন।

স্থানীয় কবি ও ইতিহাসবিদ হেনরি স্বপন জানান, বর্তমানে পুকুরে মাছ চাষ, দোকান ও ময়লার কারণে জীর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অবহেলা করেছেন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজার কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য স্টিকার দিয়ে ৫০ টাকা দৈনিক ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ময়লা যাতে পুকুরে না পড়ে, তার জন্য গ্রিল ও নেট বসানো হচ্ছে।

পুকুরটি বর্তমানে স্থানীয় ব্যবসায়ী কালু সিকদারের ইজারায় রয়েছে এবং সেখানে মাছ চাষ চলছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানান, ফোয়ারার কাজ প্রায় শেষ এবং কাজ শেষ হলে পুকুর পূর্বের রূপ ফিরে পাবে। তবে নাগরিকরা মনে করেন, পুকুরকে ঘিরে গরাদ নয়, নিয়মিত যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণই প্রকৃত সমাধান।

এমবি/টিআই