রাজশাহীতে ‘প্রেমিকার’ সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মারধরের শিকার কিশোরের মৃত্যু
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া শিহাব (১৭) নামে এক কিশোর ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া শিহাব (১৭) নামে এক কিশোর ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছে। শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিহাব উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের মিজানুর রহমান রিপনের ছেলে। চলতি বছর এসএসসি পাস করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিল সে। কিন্তু প্রেমের দেখা পেতে গিয়ে সেই স্বপ্ন থেমে গেল এক নির্মম হামলায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০ অক্টোবর রাতে শিহাব পার্শ্ববর্তী বান্দুড়িয়া এলাকায় প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যায়। তেঁতুলতলা বাঁকের কাছে পৌঁছালে মেয়েটির আত্মীয়স্বজনেরা তাকে ধাওয়া করে। আত্মরক্ষায় শিহাব দৌড়ে পুকুরে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু হামলাকারীরা পিছু নিয়ে পুকুরে নেমে তাকে পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে জ্ঞান হারালে তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ১২ দিন পর শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের বাবা মিজানুর রহমান রিপন ২৪ অক্টোবর রাতে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রতন আলী, কানন, সুজন, ইয়ার উদ্দিন, শরীফ, রাব্বি, হালিম ও কলিম।
তবে ঘটনার ১১ দিন পার হলেও শনিবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
গোদাগাড়ী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, “ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মামলাটি হামলা মামলা হিসেবে দায়ের করা হয়েছিল, এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হচ্ছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, একটি তরুণ প্রাণের এমন মর্মান্তিক পরিণতি গোদাগাড়ীতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
এমবি/টিআই

