হাতীবান্ধায় সারের সংকটে উত্তাল কৃষকরা, দ্বিতীয়দিনেও মহাসড়ক অবরোধ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সারের তীব্র সংকটের প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয়দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা।

Dec 7, 2025 - 18:45
 0  2
হাতীবান্ধায় সারের সংকটে উত্তাল কৃষকরা, দ্বিতীয়দিনেও মহাসড়ক অবরোধ
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সারের তীব্র সংকটের প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয়দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার মেডিকেল মোড় গোলচত্বর এলাকার ‘মেসার্স ওয়াছেক খান’ সার বিক্রয় কেন্দ্রের সামনে বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ হয়।

কৃষকরা জানান, ভুট্টা চাষের মৌসুম শুরু হলেও জেলায় পর্যাপ্ত সার পাওয়া যাচ্ছে না। জেলার সবচেয়ে বেশি ভুট্টার আবাদ হয় হাতীবান্ধা উপজেলায়, আর মৌসুমের শুরুতেই সারের সংকট চাষিদের বিপাকে ফেলেছে। গত সপ্তাহেও সিংগিমারী ইউনিয়নের কৃষকরা সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। প্রতিশ্রুতি পাওয়া সত্ত্বেও সার না মেলায় কৃষকরা আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা, সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর ইসলাম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ চলার পর পর্যাপ্ত সার সরবরাহের আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

চর সিন্দুর্না গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, “১৪ দোন জমির জন্য ইউরিয়া সার দরকার। কয়েক দিন ধরে ঘুরেও কিছু পাইনি। ডিলাররা বাইরে বেশি দামে সার বিক্রি করছে। সার না পেলে ভুট্টার আবাদ নষ্ট হয়ে যাবে।”

অন্য কৃষক মনির হোসেন অভিযোগ করেন, “ডিলারের কাছে বারবার গেলেও সার পাই না। খুচরা বাজারে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। এ দুর্নীতি আর চলতে পারে না।”

কৃষক শামসুল আলম বলেন, “এখনই সার দেওয়ার সময়। আজ-কালকের মধ্যে সার না পেলে রোপণই করা যাবে না। আমার মতো অনেকেই সার পাচ্ছেন না।”

সার বিক্রয় কেন্দ্রের মালিক মো. ওয়াছেক খান দাবি করেন, কৃষি অফিসের লোকজন উপস্থিত থাকলেই সার বিক্রি করা হয়। ব্যবসার দেখভাল তার ছেলেরা করেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা বীজ-সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও ইউএনও শামীম মিঞা বলেন, “মৌসুম হওয়ায় সবাই একসঙ্গে সার কিনতে আসছেন। মজুত কম থাকায় কিছু সমস্যা হয়েছে। কৃষকরা অল্প পরিমাণে চাহিদা অনুযায়ী সার কিনলে এই সংকট হতো না। আশা করছি আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

এমবি এইচআর