৫৪ বছরে সবচেয়ে কম নারী প্রার্থী, প্রশ্নের মুখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ন্যূনতম প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ করেছে ১২টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’।

Jan 12, 2026 - 15:21
 0  2
৫৪ বছরে সবচেয়ে কম নারী প্রার্থী, প্রশ্নের মুখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ন্যূনতম প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ করেছে ১২টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’। সংগঠনটির দাবি, ঘোষিত পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের প্রতিশ্রুতিও অধিকাংশ দল বাস্তবায়ন করেনি, যা রাজনৈতিক দলগুলোর নারী নেতৃত্ববিমুখতারই স্পষ্ট প্রমাণ।

ফোরামের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলই কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি।

সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘নারী প্রার্থী মনোনয়ন সংকট: দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের ব্যবধান এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে গণসাক্ষরতা অভিযান, দুর্বার নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন, নাগরিক কোয়ালিশন, নারী উদ্যোগ কেন্দ্র (নউক), নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা, নারী সংহতি, নারীপক্ষ, নারীর ডাকে রাজনীতি, ফেমিনিস্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (ফ্যাব), বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র এবং ভয়েস ফর রিফর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের প্রতিনিধি রিতু সাত্তার। তিনি বলেন, ‘নারীরা রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নারী মনোনয়ন পাঁচ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যৌথ নারী প্রার্থীর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকেও রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্ব দেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে দক্ষ ও জানাশোনা নারী নেতৃত্ব থাকলেও তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রাখা হচ্ছে না। নারীদের কেবল কমিটিতে রাখা হয়, কিন্তু ডিসিশন মেকিং প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয় না—এটাই বাস্তবতা।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শেষ মুহূর্তে কিছু স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও সামগ্রিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত হতাশাজনক। নির্বাচন কমিশন ‘জেন্ডার ইনক্লুসিভ ইলেকশন’-এর কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

ফোরামের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়, তারা সংরক্ষিত নারী আসনের বিপক্ষে। তাদের দাবি, নারীরা নিজেদের যোগ্যতায় সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন—আলাদা সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ৫৪ বছরের ইতিহাসে এবারই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম। এটি শুধু নারীদের জন্য নয়, বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক। রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের ঘোষণাপত্র ও প্রতিশ্রুতি নিজেরাই বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ভবিষ্যতে নারীরা কেন তাদের ওপর আস্থা রাখবে—এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফোরামের নেতা সামিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘দেশে নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি। যদি ৫১ শতাংশ ভোটার নারী হন, তাহলে সেই জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে বাকি ৪৯ শতাংশ দিয়ে আদৌ ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। তাই আমাদের দায়িত্ব নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, সংগঠিত করা এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করে তোলা।’

তিনি জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারী প্রার্থীদের সঙ্গে ফোরাম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছে এবং তারা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বসে রাজনৈতিক দলগুলো নির্ধারিত ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে কোনো আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

এমবি এইচআর