শিক্ষক শক্তিপদ রায়ের সুদের ফাঁদে সর্বস্বান্ত গ্রামবাসী

Oct 25, 2025 - 19:16
 0  3
শিক্ষক শক্তিপদ রায়ের সুদের ফাঁদে সর্বস্বান্ত গ্রামবাসী

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নে অতি সুদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় চামেশ্বরী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শক্তিপদ রায়ের বিরুদ্ধে অতি সুদে টাকা ধার দিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া, পরে তা ব্যবহার করে মামলা করা ও জিনিসপত্র আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, শক্তিপদ রায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর মোলানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন।

ত্রিশুলিয়া গ্রামের ভ্যানচালক হাফিজুল ইসলাম জানান, গত বছর শক্তিপদ রায়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন, শর্ত ছিল মাসে ৫ হাজার টাকা সুদ দিতে হবে। ১০ মাসে ৫০ হাজার টাকা সুদ পরিশোধের পর তিনি মূল টাকা ফেরতের সময় চান। কিন্তু শক্তিপদ রায় তার ভ্যান আটকে দেন এবং বলেন, “সুদ-আসল একসাথে না দিলে ভ্যান পাবেন না।” পরে হাফিজুল স্ত্রীসহ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অনশন করলে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সহায়তায় ভ্যানটি উদ্ধার হয়।

একইভাবে চামেশ্বরী এলাকার আরও অনেকে একই ফাঁদে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় প্রদীপ চন্দ্র রায় জানান, তিনি ৩০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন, পরে মাসে ৬ হাজার টাকা করে সুদ দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। শক্তিপদ রায় নাকি ফাঁকা স্ট্যাম্প ব্যবহার করে পাঁচ লাখ টাকার মামলা করেছেন তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন জানান, শক্তিপদ রায় প্রায় ৭০-৮০ জনের কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছেন এবং অনেককে ভয়ভীতি দেখান।

তবে অভিযুক্ত শক্তিপদ রায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কারও কাছে ফাঁকা স্ট্যাম্প নিইনি। হাফিজুল ও প্রদীপ টাকা ধার নিয়ে ফেরত দেয়নি, এজন্য কোর্টে মামলা করেছি। আমি সুদের ব্যবসা করি না।”

বলরামপুর ইউপি সদস্য আইনুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার দিন চেয়ারম্যানের নির্দেশে গিয়ে আমরা হাফিজুলের ভ্যানটি উদ্ধার করি। এলাকার আরও অনেকেই শক্তিপদ রায়ের কাছে সুদের ফাঁদে পড়েছেন বলে শুনেছি।”

ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এ ধরনের সুদের কারবার ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। দরিদ্র মানুষ কষ্টের টাকায় সুদ দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।”

আটোয়ারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, “এ বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এমবি/এসআর